Friday, February 20, 2026

ক্বুরআন ছুন্নাহ অনুসারে য়া’লিম কারা?

ক্বুরআন ছুন্নাহ অনুসারে য়া’লিম কারা?

আজকে যারা নিজেদের ওয়ারাছাতুল আম্বিয়া ওয়াল মুরছালিন বলে দাবি করে বেড়াচ্ছে, যারা নিজেদের ইছলামের ঠিকাদার বলে থাকে, বা নিজের ব্লাইন্ড ফলোয়ার দিয়ে মানুষকে কনভিন্স করে গুমরাহ করছে, তারা কি আসলেই দ্বীনের মুবাল্লিগ। একজন মুবাল্লিগ্ব আসলে কেমন হবে? দ্বীনের খেদমতগার য়ালিমকে কেমন হতে হবে? অলি-আউলিয়াকে কেমন হতে হবে? একেবারে হুবুহু সেরূপ, যেরূপ রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম করে দেখিয়েছেন, তাইনা?

য়ালিম, মুয়াল্লিম, মুবাল্লিগ্বের সঙ্গা সহজে বোঝার জন্যে পবিত্র আল কুরআনের কয়েকটি আয়াত শরীফ আমি আপনাদের সম্মুখে উপস্থাপন করবো। যাতে আপনাদের পূর্ণ ধারনা চলে আসে, তাদের ব্যপারে যাদের আমরা য়ালিম, মুফতি, দ্বীনের ঠিকাদার মনে করতেছি, তাদের মধ্যে কি এই ছিরত বিদ্যমান যা ছুন্নাহ হিসেবে নিজেদের মধ্যে কায়েম করার কথা ছিলো?

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ (یَرۡفَعِ اللّٰهُ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مِنۡكُمۡ ۙ وَ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡعِلۡمَ دَرَجٰتٍ ؕ وَ اللّٰهُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ خَبِیۡرٌ) তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে, মহান আল্লাহ তায়ালা তাদের মর্যাদা উন্নীত করেন। আর যাদেরকে (মহান আল্লাহ তায়ালা) ঈলম আতা করে (য়ালিম) বানিয়েছেন, তিনি তাদের উচ্চ মাক্বাম আতা করেন। আর মহান আল্লাহ তায়ালা তোমরা যা করো সে সম্পর্কে সম্যক অবগত। (ছুরা মুজাদালাহ ৫৮:১১)

মহান আল্লাহ তায়ালা আরো বলেনঃ (اِنَّمَا یَخۡشَی اللّٰهَ مِنۡ عِبَادِهِ الۡعُلَمٰٓؤُا ؕ اِنَّ اللّٰهَ عَزِیۡزٌ غَفُوۡرٌ) মহান আল্লাহ তায়ালা উনার বান্দাদের মধ্যে প্রকৃত উলামায়ে কেরাম তাঁরাই, যারা সত্যিকার অর্থে মহান আল্লাহ তায়ালা উনাকেই ভয় করেন (অর্থাৎ ক্বলবে খাশিহ লাভ করেন)। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তায়ালা পরাক্রমশালী ও অতিশয় ক্ষমাশীল। (ছুরা ফাতির ৩৫:২৮)

আর য়ালিম ও অজ্ঞের মধ্যে তফাৎ এনে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ (قُلۡ هَلۡ یَسۡتَوِی الَّذِیۡنَ یَعۡلَمُوۡنَ وَ الَّذِیۡنَ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ؕ اِنَّمَا یَتَذَكَّرُ اُولُوا الۡاَلۡبَابِ) (পেয়ারে হাবীব ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম) আপনি তাদের বলুনঃ যারা জানে এবং যারা জানে না, তারা কি সমান হতে পারে? (না, কখনোই নয়)। বরং (এই কথাগুলো) কেবল তারাই অনুধাবন করে, যাদের রয়েছে অন্তর্দৃষ্টি ও বিবেক। (ছুরা ঝুমার ৩৯/৯)

আর হাদিছ শরীফে এসেছেনঃ (عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ، قَالَ ذُكِرَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلاَنِ أَحَدُهُمَا عَابِدٌ وَالآخَرُ عَالِمٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ فَضْلُ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِي عَلَى أَدْنَاكُمْ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إِنَّ اللَّهَ وَمَلاَئِكَتَهُ وَأَهْلَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ حَتَّى النَّمْلَةَ فِي جُحْرِهَا وَحَتَّى الْحُوتَ لَيُصَلُّونَ عَلَى مُعَلِّمِ النَّاسِ الْخَيْرَ) হযরত আবূ উমামাহ আল-বাহিলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম-এর নিকট দুই ব্যক্তি সম্পর্কে আলোচনা করা হলঃ- তাদের একজন ছিলেন আবিদ (ঈবাদতকারী), আর অন্যজন ছিলেন য়ালিম (ঈলমুল্লার অধিকারী)। তখন রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বললেনঃ একজন য়ালিমের মর্যাদা একজন য়াবিদের উপর এমন, যেমন আমার মর্যাদা তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে নিচু স্তরের একজনের উপর।এরপর রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বললেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা, তাঁর ফেরেশতাগণ, আসমান ও যমীনের সকল বস্তুঃ- এমনকি তার গর্তের ভিতরে থাকা পিঁপড়া পর্যন্ত, এবং মাছ পর্যন্ত, তারা সবাই মানুষের মাঝে কল্যাণ শিক্ষা দানকারী ব্যক্তির জন্য দরূদ পাঠ করে। (তিরমিজী ২৬৮৫)

কালামুল্লাহ শরীফ রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার সিফত মুবাল্লিগ হিসেবে কীরূপ ছিলেন তা বর্ণনা করতেছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেনঃ (ہُوَ الَّذِیۡ بَعَثَ فِی الۡاُمِّیّٖنَ رَسُوۡلًا مِّنۡہُمۡ یَتۡلُوۡا عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتِہٖ وَ یُزَکِّیۡہِمۡ وَ یُعَلِّمُہُمُ الۡکِتٰبَ وَ الۡحِکۡمَۃَ  وَ اِنۡ کَانُوۡا مِنۡ قَبۡلُ لَفِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ) তিনিই সেই মহান সত্তা, যিনি জাহিল আরবদের মধ্যে থেকে তাদেরই একজনকে রছুল বানিয়ে পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের উপর মহান আল্লাহ তায়ালা উনার আয়াত শরীফ সমূহ তিলাওয়াত করেন। আর তাদের নফছ ও ক্বলবের তাজকিয়া করেন, এবং পবিত্র কিতাব (আল ক্বুরআনর জাহেরি বাতেনি) ঈলম শিক্ষা দেন, ও (বাতেনী য়ীলম বোঝার) হিকমত বা প্রজ্ঞার দীক্ষাও দেন। অথচ এ লোকগুলোই (রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম আসার) আগে (পর্যন্ত) সুস্পষ্ট গুমরাহীতে নিমজ্জিত ছিলো। (সূরাহ জুমুয়াহ শরীফ ৬২/২) মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি একিই বিষয়ে আরো স্পষ্ট করেই বলেনঃ (كَمَاۤ اَرۡسَلۡنَا فِیۡكُمۡ رَسُوۡلًا مِّنۡكُمۡ یَتۡلُوۡا عَلَیۡكُمۡ اٰیٰتِنَا وَ یُزَكِّیۡكُمۡ وَ یُعَلِّمُكُمُ الۡكِتٰبَ وَ الۡحِكۡمَۃَ وَ یُعَلِّمُكُمۡ مَّا لَمۡ تَكُوۡنُوۡا تَعۡلَمُوۡنَ) (সঠিক পথের সন্ধান দেওয়ার জন্যে) যেভাবে আমি তোমাদের মধ্যে থেকেই একজনকে রছূল বানিয়ে পাঠিয়েছি, যিনি তোমাদের উপর আমার আয়াত শরীফ সমূহ তিলাওয়াত করবেন, আর তোমাদের নফছ ও ক্বলবের তাজকিয়া করে দেবেন, এবং পবিত্র কিতাব (আল ক্বুরআনর জাহেরি বাতেনি) ঈলম শিক্ষা দেবেন আর (বাতেনী য়ীলম বোঝার) হিকমত বা প্রজ্ঞার দীক্ষা সহ এমন বিষয়েরও দীক্ষা দিবেন, যা এর আগে তোমরা জানতেই না। (ছুরা বাকারা শরীফঃ ২/১৫১)

প্রথমতো (أُمِّيِّيْنَ) উম্মিয়্যিনাদ্বারা এমন আরবদেরকে বুঝানো হয়েছে, যাদের অধিকাংশ জাহেলিয়াতে লিপ্ত ছিলো। কিন্তু এদেরকে বিশেষ করে উল্লেখ করার অর্থ এই নয় যে, রছুলে পাক ছল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার রিছালাত অন্য কোন মিল্লাতের জন্য ছিল না। কিন্তু সর্বপ্রথম যেহেতু সম্বোধন তাদেরকেই করা হয়েছে, তাই তাদের উপর ছিল মহান আল্লাহ তায়ালা উনার বেশী অনুগ্রহ।

মুয়াল্লীম হিসেবে নবী-রাসূল য়ালাইহিমুছ ছালাম প্রেরণের উদ্দেশ্য বর্ণনা প্রসঙ্গে রছুলে পাক ছল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার তিনটি গুণ উল্লেখ করা হয়েছেঃ

১) প্রথমতোঃ আল কুরআনের আয়াত শরীফ মানুষের উপর তেলাওয়াতের গূন। আয়াতে বর্ণিত তেলাওয়াতশব্দের বাহ্যিক অর্থ অনুসরণ করা। পরিভাষায় শব্দটি কালাম পাঠ করার অর্থে ব্যবহৃত হয়। (آيَات) আয়াতবলে আল কুরআনের আয়াত শরীফকে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ রছুলে পাক ছল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামকে প্রেরণ করার এক উদ্দেশ্য এই যে, তিনি মানুষের উপর আল কুরআনের আয়াতসমূহ পাঠ করবেন।

২) দ্বিতীয় হচ্ছেঃ উম্মতকে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ সকল প্রকার অপবিত্ৰতা থেকে পবিত্র করা, আয়াতে উল্লেখিত (يُزَكِّيهِمْ) শব্দটি তাযকিয়াহথেকে গ্রহণ করা হয়েছে। তাযকিয়াহশব্দটি অভ্যন্তরীণ দোষ থেকে পবিত্র করার অর্থে অধিকতর ব্যবহৃত হয়; অৰ্থাৎ নফসের পূজায় লিপ্ত হয়ে কুফর, শিরক ও কুচরিত্ৰতায় যারা ডুবে থাকে তাদের পবিত্র করা। কোন সময় বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ সর্বপ্রকার পবিত্রতার জন্যেও ব্যবহৃত হয়। এখানে এই ব্যাপক অর্থই উদ্দেশ্য।

৩) কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেয়া। এখানে কিতাববলে পবিত্র ক্বুরআন এবং হিকমতবলে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম থেকে বর্ণিত উক্তিগত ও কর্মগত শিক্ষাসমূহ বোঝানো হয়েছে বলে অধিকাংশ তফছীরকারক এখানে হিকমতের তাফসীর করেছেন ছুন্নাহ। (ফাতহুল কাদীর)

যাইহোক আমরা ইনশাআল্লাহ আমাদের ঈলম দ্বারা এঁর যতটুকু হক্ব ব্যখ্যা করা যায় করবো।

মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন যে, ঐ জাহিল অর্থাৎ আরবদের মধ্যে তিনি স্বীয় রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামকে প্রেরণ করেন। এটা এই জন্যে যে, যেন হযরত ইবরাহীম য়ালাইহিছ ছালামের দোয়া কবূল হয়েছে এটা বোঝা যায়। তিনি মক্কা শরীফ বাসীর জন্যে আল্লাহ্ তাআলার নিকট প্রার্থনা করেছিলেন যে, (رَبَّنَا وَ ابۡعَثۡ فِیۡهِمۡ رَسُوۡلًا مِّنۡهُمۡ یَتۡلُوۡا عَلَیۡهِمۡ اٰیٰتِكَ وَ یُعَلِّمُهُمُ الۡكِتٰبَ وَ الۡحِكۡمَۃَ وَ یُزَكِّیۡهِمۡ ؕ اِنَّكَ اَنۡتَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَكِیۡمُ) হে আমাদের রব! আপনি তাদের মধ্য থেকে তাদেরই একজনকে রছুল বানিয়ে পাঠিয়ে দিন, যিনি তাদের উপর আপনার আয়াত শরীফ সমূহ তিলাওয়াত করবেন, এবং পবিত্র কিতাব (আল ক্বুরআনর জাহেরি বাতেনি) ঈলম শিক্ষা দেবেন আর (সেই অনুসারে চলার কৌশল) হিকমতের দীক্ষাও দিবেন, এবং তাদের নফছ ও ক্বলবের তাজকিয়া করবেন। নিশ্চয়ই আপনি মহা পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (ছুরা বাক্বরহ ২/১২৯) এটা ছিলো ইবরাহীম য়ালাইহিছ ছালাম উনার শেষ দোয়া। মহান আল্লাহ তা'য়ালা হযরত ইবরাহীম য়ালাইহিছ ছালামের এ দোয়াও কবূল করেন। ঐ সময় সমস্ত মাখলুকের জন্যে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের কঠিন প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। আহলে কিতাবের শুধুমাত্র কতক লোক হযরত ঈসা য়ালাইহিছ ছালামের সত্য দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। উনারা গুলু’ ‘জফাইফরাত ও তাফরীত হতে বেঁচে ছিলেন। তাঁরা ছাড়া দুনিয়ার সমস্ত মানুষ সত্য দ্বীনকে ভুলে বসেছিল এবং মহান আল্লাহ তায়ালার অসন্তুষ্টির কাজে জড়িয়ে পড়েছিল। এমতাবস্থায় আল্লাহ্ তা'আলা স্বীয় রছুল ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামকে প্রেরণ করলেন। তিনি ঐ নিরক্ষরদের উপর মহান আল্লাহ তায়ালার আয়াতসমূহ পাঠ করলেন, তাদেরকে নফসের নাপাকি হতে পবিত্র করলেন এবং কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দিলেন। অথচ ইতিপূর্বে তারা ঘোর বিভ্রান্তিতে ছিল। আরবরা হযরত ইবরাহীম আলাহিছ ছালামের দ্বীনের দাবীদার ছিল বটে, কিন্তু অবস্থা এই ছিল যে, তারা ঐ দ্বীনকে পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও বদল করে ফেলেছিল। তারা ঐ দ্বীনের মধ্যে এতো বেশী পরিবর্তন আনয়ন করেছিল যে, তাওহীদ শিরকে এবং বিশ্বাস সন্দেহে পরিবর্তিত হয়েছিল। তারা নিজেরাই বহু কিছু বিদআত আবিষ্কার করে নিয়ে মহান আল্লাহ তায়ালার দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত করে ফেলেছিল যেরূপ আজ সহিহ দ্বীনের ঠিকাদার আহলে হাদিছ, ছালাফি, দেওবন্দি, ও কথিত অনেক ছুন্নীই করেছে কিন্তু মানতে নারাজ। অনুরূপভাবে আহলে কিতাবও তাদের কিতাবগুলো বদলিয়ে দিয়েছিল, সাথে সাথে অর্থেরও পরিবর্তন ঘটিয়েছিল। সুতরাং মহান আল্লাহ তায়ালা রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামকে আযীমুশশান শরীয়ত এবং পরিপূর্ণ দ্বীনসহ দুনিয়াবাসীর নিকট প্রেরণ করেন, যেন তিনি এই গোলযোগ মিটিয়ে দিতে পারেন। তিনি যেন আহলে কিতাবের নিকট মহান আল্লাহ তায়ালা উনার আসল আহকাম পৌঁছিয়ে দেন, উনার সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টির আহকাম জনগণকে জানিয়ে দেন, এমন আমল তাদেরকে বাতলিয়ে দেন যা তাদেরকে বেহেশতের নিকটবর্তী করবে এবং জাহান্নাম হতে পরিত্রাণ লাভ করাবে, তিনি সমস্ত মাখলুকের জন্যে পথ প্রদর্শক হোন, শরীয়ত তরিকত মায়রিফাত হক্বিকতের মূল সকল শাখাই শিক্ষা দেন, ছোট বড় কোন কথা ও কাজ না ছাড়েন, সবারই সমস্ত শক-সন্দেহ দূর করে দেন এবং জনগণকে এমন দ্বীনের উপর আনয়ন করেন যার মধ্যে সর্বপ্রকারের মঙ্গল বিদ্যমান রয়েছে। এসব মহান দায়িত্ব পালনের জন্যে মহান আল্লাহ তায়ালা রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের মধ্যে এমন শ্রেষ্ঠত্ব ও বুযুর্গী ইন্সটল করে প্রেরন করেন যা না উনার পূর্বে কারো মধ্যে ছিল এবং না উনার পরে কারো মধ্যে থাকবে।

মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেনঃ (كَمَاۤ اَرۡسَلۡنَا فِیۡكُمۡ رَسُوۡلًا مِّنۡكُمۡ یَتۡلُوۡا عَلَیۡكُمۡ اٰیٰتِنَا وَ یُزَكِّیۡكُمۡ وَ یُعَلِّمُكُمُ الۡكِتٰبَ وَ الۡحِكۡمَۃَ وَ یُعَلِّمُكُمۡ مَّا لَمۡ تَكُوۡنُوۡا تَعۡلَمُوۡنَ فَاذۡكُرُوۡنِیۡۤ اَذۡكُرۡكُمۡ وَ اشۡكُرُوۡا لِیۡ وَ لَا تَكۡفُرُوۡنِ) (সঠিক পথের সন্ধান দেওয়ার জন্যে) যেভাবে আমি তোমাদের মধ্যে থেকেই একজনকে রছূল বানিয়ে পাঠিয়েছি, যিনি তোমাদের উপর আমার আয়াত শরীফ সমূহ তিলাওয়াত করবেন, আর তোমাদের নফছ ও ক্বলবের তাজকিয়া করে দেবেন, এবং পবিত্র কিতাব (আল ক্বুরআনর জাহেরি বাতেনি) ঈলম শিক্ষা দেবেন আর (বাতেনী য়ীলম বোঝার) হিকমত বা প্রজ্ঞার দীক্ষা সহ এমন বিষয়েরও দীক্ষা দিবেন, যা এর আগে তোমরা জানতেই না। অতএব (এই নিয়ামত লাভের কারনে) তোমরা আমার যিকির করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করবো। আর তোমরা আমার শাকির বান্দা হয়ে যাও, অকৃতজ্ঞ হয়ে আমার সাথে কুফরী করো না। (ছুরাহ বাকারা শরীফঃ ২/১৫১-১৫২) একিই বিষয়ের আলাপই করছেন, তবে এইখানে স্পষ্ট করেই বলেছেন রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়াছাল্লাম মুমিনদের জন্যে কি, যেমনঃ (لَقَدۡ مَنَّ اللّٰهُ عَلَی الۡمُؤۡمِنِیۡنَ اِذۡ بَعَثَ فِیۡهِمۡ رَسُوۡلًا مِّنۡ اَنۡفُسِهِمۡ یَتۡلُوۡا عَلَیۡهِمۡ اٰیٰتِهٖ وَ یُزَكِّیۡهِمۡ وَ یُعَلِّمُهُمُ الۡكِتٰبَ وَ الۡحِكۡمَۃَ ۚ وَ اِنۡ كَانُوۡا مِنۡ قَبۡلُ لَفِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ) নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের উপর বড় অনুগ্রহ করেছেন, যখন তিনি তাদেরই মধ্যে থেকে তাদেরই একজনকে রছূল হিসেবে প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের উপর মহান আল্লাহ তায়ালা উনার আয়াত শরীফ সমূহ তিলাওয়াত করেন। আর তাদের নফছ ও ক্বলবের তাজকিয়া করেন, এবং পবিত্র কিতাব (আল ক্বুরআনর জাহেরি বাতেনি) ঈলম শিক্ষা দেন আর (সেই অনুসারে চলার কৌশল) হিকমতেরও দীক্ষা দেন। অথচ এ লোকগুলোই (রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম আসার) আগ (পর্যন্ত) সুস্পষ্ট গুমরাহীতে নিমজ্জিত ছিলো। (ছুরাহ আলে ইমরান ৩/১৬৪) এই আয়াত প্রমাণ করে, রছূলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম হলেন আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত। আর নিয়ামতের জন্য শুকরিয়া করা কুরআনেরই নির্দেশ। এই নির্দেশ কেবল হাক্বিকি ঈবাদতকারিই মানতে পারবে, লোক দেখানো আবিদ, নামাজী, মুল্লা, ওয়াজি, মুফতির পক্ষে সম্ভব না, যেমন মহান আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ (وَاشْكُرُوا لِلَّهِ إِن كُنتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ) তোমরা মহান আল্লাহ তায়ালা উনার শুকরিয়া আদায় করো, যদি তোমরা উনারই ঈবাদত করে থাকো। (ছুরা বাকারা শরীফঃ ২/১৭২)

আয়াতের তাফসীরে কিতাবে হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ একদা আমরা রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের পার্শ্বে বসেছিলাম এমন সময় উনার ওপর ছুরাহ জুময়াহ শরীফ অবতীর্ণ হয়। জনগণ জিজ্ঞেস করেনঃ ইয়া রছুলাল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম! (اَخَرِيْنَ مِنْهُمْ) দ্বারা কাদেরকে বুঝানো হয়েছে?” কিন্তু তিনি কোন উত্তর দিলেন না। তিনবার এই প্রশ্ন করা হয়। আমাদের মধ্যে হযরত ছালমান ফারসী য়ালাইহিছ ছালাম তিনিও ছিলেন। রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার মুবারক হাতখানা হযরত ছালমান ফারসী য়ালাইহিছ ছালামের উপর রেখে বললেনঃ ঈমান যদি সারিয়্যা নক্ষত্রের নিকট হতো তাহলেও এই লোকগুলোর মধ্যে এক বা কয়েক ব্যক্তি এটা পেয়ে যেতো।এ রিওয়াইয়াত দ্বারা বোঝা যাচ্ছে যে, এটা মাদানী ছুরাহ এবং এটাও প্রমাণিত হচ্ছে যে, রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম সারা দুনিয়াবাসীর জন্যে নবী, শুধু আরববাসীদের জন্যে নন। কেননা, তিনি এই আয়াত শরীফের তাফসীরে পারস্যবাসীদের সম্পর্কে উপরোক্তে মন্তব্য করেন। এ জন্যেই তো রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম পারস্য ও রোমের সম্রাটদের নিকট ইছলামের দাওয়াতনামা প্রেরণ করেছিলেন।

যাইহোক এবার আমরা মূল ব্যখ্যায় চলে যাই। আপনি যখন ক্বুরআন তিলাওয়াত করেন তখন কার উপর তা পাঠ করেন? যখন আপনার ছফিনা খতম করা হয় মাইকে সারা রাত ধরে, তখন সেই হাফিজ কার উপর তিলাওয়াত করে? যখন ক্বুররা তার সুরেলা কন্ঠের কারনে আল ক্বুরআনর মাহফিলে ডাক পায় টাকার বিনিময়ে গিয়ে তিলাওয়াত করে কার উপর তিলাওয়াত করে? বাস্তবতা হলো এরা আল ক্বুরআনর তিলাওয়াত করাই কেবল শিখেছে, কিন্তু এরা এটা শিখেনাই মানুষের উপর কীভাবে ক্বুরআন পাঠ করা হবে। (یَتۡلُوۡا عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتِہٖ) আর তিনি (অর্থাৎ রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম) উনার যারা উম্মত তাদের উপর আল ক্বুরআনুল কারিমের তিলাওয়াত করেন। নিজের উম্মতদের উপর। জানার বিষয় হলো ক্বলামুল্লাহ শরীফের তিলাওয়াত কারো উপর করার মানে আসলে কি? যখন কেউ ক্বুরআন পাঠ করে, আর তখন তার জবান তার ক্বলবের সাথে যুক্ত থাকে, আর ক্বুরআন পাঠ করা হয়, যার সম্মুখে পাঠ করা হয়, কুরআনের সেই আয়াত ও তিলাওয়াত থেকে উৎপন্ন নূর তার কলবের মধ্যে চিরস্থায়ী ইন্সটল হয়ে যায়। এই হচ্ছেন (یَتۡلُوۡا عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتِہٖ)। যদি কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করা হয়, তাহলে সম্মুখে যে বসা থাকবে শোনার জন্যে, তার কলবের মধ্যে সেই আয়াত ও তিলাওয়াত থেকে উৎপন্ন নূর তার কলবের মধ্যে চিরস্থায়ী ইন্সটল হয়ে যাবে। এই জীবনে আর ঐ আয়াত শরীফের নূর ও ফায়েজ কখনোই কমবেনা। অর্থাৎ আয়াত শরীফের মধ্যে হুকুম আহকাম নামক কমান্ডের যে প্রোগ্রাম বিদ্যমান থাকবে তা কলব নামক দেহ ডিভাইসের অপারেটিং সিস্টেমে ডেফল্ট প্রোগ্রাম হিসেবে লকড অবস্থায় ইন্সটল হয়ে যাবে। কোন সয়তান ভাইরাস হয়ে হানা দিলেও তা ডিলিটের কোন অপশন থাকবেনা। বরং যখন প্রয়োজন হবে নির্দ্বিধায় সেই আয়াতগুলি অটো রান করবে হুকুম আহকাম হিসেবে দৈনন্দিন জীবনে।

(یَتۡلُوۡا عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتِہٖ) তো এক তো এই কোয়ালিটি থাকা দরকার য়ালিমে হক্বের মধ্যে। কি ধরণের কোয়ালিটি? সে যখন কালামুল্লাহ শরীফের তিলাওয়াত করে, তখন শ্রবণকারীর ক্বলবের মধ্যে সেই আয়াত শরীফ নূর সহ ইন্সটল হয়ে যায়। যেরূপ আমরা ক্বলবি যিকির করলে, পাক জাতের হক্ব নাম আল্লাহুআমাদের কলবে যান এবং প্রত্যেকটা হৃদস্পন্দনের সাথে ঘষা খান ফলে নূর উৎপন্ন হয়। তেমনি কালামুল্লাহ শরীফের আয়াতের মধ্যে ঘর্ষণ জরুরী নূর বানাতে হলে। এখন তুমি ক্বুরআন শরীফ যে শ্রবন করো, স্বাধ পাওনা তাইনা? ক্বুরআন শরীফ কি? নূর বানানোর কাঁচামাল। উদাহরণস্বরূপ তোমাকে কোন খাবার রান্না করতে হবে, তোমাকে সিলেটের আখনি বানাতে হবে। তো এর কাঁচামাল কি? চাল, তেল, মশলা, গোশত। অনুরূপভাবে ক্বুরআনুল কারীম হলেন নূর বানানোর, ইমান বানানোর উপাদান। রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম যখন উম্মতের উপর আয়াত শরীফ পাঠ করতেন তখন উনার সকল লতিফাই এই তিলাওয়াতে শরীক হতেন। আর ভেতরে ঘর্ষণের ফলে নূর বাহীরে আসতেন। ক্বুরআনুল কারিমের আয়াত শরীফ মুহম্মদি সিনার সাথে ঘর্ষণ খান, এরপর জবান মুবারকের সাথে ঘর্ষণ খেয়ে সোজা আপনার কলবে গিয়ে ইন্সটল হয়ে যায়। (یَتۡلُوۡا عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتِہٖ) তিনি তোমাদের উপর আয়াত শরীফ পাঠ করেন, এক তো হলো তিলাওয়াত করা, কিন্তু এটা সেটা না, ক্বুরআনুল কারিম বলছেন (یَتۡلُوۡا عَلَیۡہِمۡ) তাদের উপর পাঠ করুন। অতএব যারা উনার হাক্বিকি ছ্বহবত নিতে আসতো, তখন ছ্বহবতের ফলে তাদের ক্বলব জারি হতো, আর রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম তখন যে তিলাওয়াল করতেন তা তাদের কলবে ইন্সটল হয়ে যেতো। যারা ছ্বহবতে উন্মাদ থাকতো যেমন আছ্বহাবে ছুফফা, তাদের শুধু ক্বলবই না রূহ-ও মুনাওয়ার ছিলো, জারি ছিলো, রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম তখন উনার তিলাওয়াত তাদের ক্বলব রূহ উভয়েই ইন্সটল হয়ে যেত।

ঈলমের চেয়ে সহবত কত গুরুত্বপূর্ণ সেটা একটি হাদিছ শরীফ বল্লেই বুঝতে পারবেন?

রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের কাতিব হানযালাহ আল উছাইয়িদী রদ্বিআল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিআল্লাহু আনহু আমার সঙ্গে দেখা করলেন এবং আমাকে প্রশ্ন করলেন, হে হানযালাহ! রদ্বিআল্লাহু আনহু আপনি কেমন আছেন? তিনি বলেন, জবাবে আমি বললাম, হানযালাহ্ তো মুনাফিক হয়ে গেছে। আবু বকর ছিদ্দীক য়ালাইহিছ ছালাম সে সময় বললেন, সুবহানাল্লাহ আপনি এটা কি বলছেন? হানযালাহ রদ্বিআল্লাহু আনহু বলেন, আমি বললাম, যখন আমরা রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের কাছে থাকি, তিনি আমাদের আখিরাত তথা যান্নাত ও যাহান্নামের কথা শুনিয়ে দেন, যেন আমরা উভয়টি চাক্ষুষ দেখছি। কিন্তু যখন আমরা রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের ছ্বহবত থেকে বের হয়ে আপনজন, স্ত্রী-সন্তান এবং ধন-সম্পদের মধ্যে নিমগ্ন হয়ে যাই তখন আমরা এর অনেক বিষয়ই ভুলে যাই। আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিআল্লাহু আনহু বললেন, মহান আল্লাহ তায়ালার কছম আমারও একই অবস্থা। নিশ্চয়ই আমরা এ বিষয় নিয়ে (রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের) সাক্ষাৎ করবো। তারপর আমি এবং আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিআল্লাহু আনহু রওনা করলাম এবং এমনকি রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের কাছে চলে গেলাম। আমি বললাম, ইয়া রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম, হানযালাহ্ মুনাফিক হয়ে গেছে। রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বললেন, তা কীরূপে?

আমি বললাম, আমরা যখন আপনার ছ্বহবতে থাকি, আপনি আমাদের যান্নাত-যাহান্নামের কথা স্বরন করিয়ে দেন, যেন আমরা তা সরাসরি দেখতে পাই। তারপর আমরা যখন আপনার নিকট হতে বের হই এবং স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি ও ধন-সম্পদের মধ্যে নিমগ্ন হই সেসময় আমরা এর অনেক বিষয় ভুলে যাই। রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বললেনঃ যে সত্তার হাতে আমার জীবন আমি উনার কসম করে বলছি! আমার ছ্বহবতে থাকাকালে তোমাদের যে অবস্থা হয়, যদি তোমরা সবসময় এ অবস্থায় অনড় থাকতে এবং সার্বক্ষণিক মহান আল্লাহ তায়ালা উনার জিকিরে পড়ে থাকতে, তাহলে অবশ্যই ফেরেশতা য়ালাইহিমুছ ছালামগণ তোমাদের বিছানায় ও রাস্তায় তোমাদের সাথে মুসাফাহ করতেন। কিন্তু হে হানযালাহ! এক ঘণ্টা (মহান আল্লাহ তায়ালার জিকরে) আর এক ঘণ্টা (দুনিয়াবী কাজে ব্যয় করবে) অর্থাৎ আস্তে আস্তে (চেষ্টা কর)। এ কথাটি তিনি (ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম) তিনবার বললেন। (ইছলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭১৩, ইছলামিক সেন্টার ৬৭৬৯)। এই হচ্ছে ছ্বহবতে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম। এখন কথা হলো উনারা ছ্বহবতে থেকে কি শিখতেন? দেখি হাদিছে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামে কি আছে। জুনদুব বিন আবদুল্লাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমরা রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের ছ্বহবতে ছিলাম। আমরা ছিলাম শক্তিশালী এবং সক্ষম যুবক সম্প্রদায়। আমরা রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের থেকে ক্বুরআনুল কারিম শেখার পূর্বে ঈমান শিখতাম, অতঃপর ক্বুরআন শিখতাম, তখন ক্বুরআন শরীফ পাঠ করলে ইহা দ্বারা আমাদের ঈমান বেড়ে যেত। (ইবনে মাজাহ শরীফ ৬১)

এখন যারা য়ালীম, ওয়ারাছাতুল আম্বিয়া দাবীদার, তারা কি এরূপ ছ্বহবতে ঈমান আতা করে? আচ্ছা কারো ক্বলবে ঈমান কীভাবে ঢুকাতে হয় তারা কি তা জানে?

যাইহোক আবার চলে আসি মূল প্রসঙ্গেঃ (یَتۡلُوۡا عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتِہٖ) তিনি তোমাদের উপর আয়াত শরীফ পাঠ করেন। অর্থাৎ তুমি এমনভাবে আয়াত শরীফ পাঠ করো, যেনো তোমার সিনা থেকে আয়াত শরীফের হুকুম আহকাম ও নূর মুবারক বের হয়ে সম্মুখে থাকা সবার ক্বলবের মধ্যে দাখিল হয়ে যায়, ইন্সটল হয়ে যায়। কখনোই আর ডিলিট না হয়। একেবারে ডিফল্ট হয়েই যেনো ইন্সটল হয়। (یَتۡلُوۡا عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتِہٖ) মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুম অনুসারে এটাই প্রথম গূন একজন হাক্বিকি য়ালীমের। য়ালিম হলে এরূপই হও, কেনো এরূপ হবে? বলো? জবাব দাও? কারন রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম এরূপ করে দেখিয়েছেন। এটাই য়ালিম হওয়ার প্রথম ছুন্নাহ। তোমাদের নিকট শুধু মানুষের বাড়িতে কদু দিয়ে গোশত খাওয়া, মিষ্টি খওয়া, রমজান এলে খেজুর খাওয়া ছুন্নত স্বরনে আছে?

এই ছুন্নাহ কোথায় যাবে? সবচেয়ে বড় ছুন্নাহ? রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামইতো দ্বীনের তাবলীগের মাধ্যমে ইছলাম প্রচার করেছেন। তো তুমি কোন ধরণের ইছলাম প্রচার করে বেড়াচ্ছ? তাবলীগে দ্বীনের বেলায় কেনো তুমি রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার ছুন্নতের উপর আমল করনা? ঐরকম তাবলীগ কেনো করনা যেরকম রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম দ্বীনের তাবলীগ করে দেখিয়েছেন, আমাদের করার জন্য ছুন্নাহ হিসেবে রেখে গেছেন। অনুরূপ তিলাওয়াত করো যেরূপ রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম তিলাওয়াত করেছেন। (یَتۡلُوۡا عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتِہٖ) আমার পেয়ারে হাবীব ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম আমার আয়াত শরীফ সমূহ পাঠ করেন তোমাদের উপর। তো আমরা প্রথম গূন পেয়ে গেলাম প্রকৃত য়ালীমে দ্বীনের। কিন্তু আমাদের মধ্যে যারা য়ালিম বা ক্বুররা আছে তাদেরকে কি (یَتۡلُوۡا عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتِہٖ) এর মিছদ্বাক হিসেবে পাওয়া যাবে? না কস্মিনকালেও না। আমাদের সম্মুখে থাকা ছালাফি আহলে হাদিছের মুল্লাদের যাদের এখন ইছলামের ঠিকাদার হিসেবে মনে করা হয়, যারা ক্বুরআন শরীফের আয়াত সমূহ পাঠ করে থাকে, অথচ তা তাদের নিজেদের কোন কাজে আসেনা সেখানে এই আয়াত শরীফের মিছদ্বাক কীভাবে হবে? যেমন, হাদিছ শরীফে এসেছেঃ

মাওলা আলী কাররমাল্লাহু ওয়াঝাহু য়ালাইহিছ ছালাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, শেষ যামানায় এমন একদল মানুষের আবির্ভাব হবে, যারা হবে কমবয়স্ক এবং যাদের বুদ্ধি হবে স্বল্প। তবে এদের কথা হবে মনোমুগ্ধকর ভালো হক্ব কথা, কিন্তু তারা ইছলাম থেকে এমনভাবে বের হয়ে যাবে যেভাবে ধনুক থেকে তীর বেরিয়ে যায়। তাদের ঈমান তাদের গলার নিচে পৌঁছবে না অর্থাৎ কলব পর্যন্ত যাবেনা। (বুখারী শরীফ ৫০৫৭)

এইযে ছালাফি বক্তারা আজকে আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া ও লাইফে বিদ্যমান, উপরোক্ত হাদিছ শরীফের সকল গূনই এদের মধ্যে বিদ্যমান। প্রথমত এদের বয়স কম। প্রজ্ঞা, বুদ্ধি ও হিকমাহ নাই। যদিওবা তারা মানুষকে মনোমুগ্ধকর ভালো হক্ব কথা বলবে কিন্তু তারা পরিপূর্ণ ঈমানদার হতে পারবে না। তারা কিছু অংশ মানবে কিছু মানবে না। তারা ক্বুরআন পাঠকারী হবে, তবে ক্বুরআন বুঝতে তারা সক্ষম হবে না। ঈলমগত দৈন্যতা থাকবে।

যেমন আবু সাঈদ খুদরী রদ্বিআল্লাহু আনহু বলেনঃ আমরা রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের নিকটে উপস্থিত ছিলাম। তিনি গণীমতের কিছু মাল বণ্টন করছিলেন। তখন বনু তামীম গোত্রের যুল খুওয়াইছারানামক এক ব্যক্তি এসে বলল, হে নবী! আপনি ইনছাফ করুন। তখন রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বললেন, তোমার দুর্ভাগ্য! আমি যদি ইনছাফ না করি, তাহলে কে ইনছাফ করবে? আমি যদি ইনছাফ না করি, তাহলে তো তুমি ধ্বংসপ্রাপ্ত ও নিষ্ফল হবে। সাইয়্যিদুনা হজরত উমর ইবনুল খত্তাব রদ্বিআল্লাহু আনহু বললেন, ইয়া রছুলাল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম! আপনি আমাকে অনুমতি দিন, আমি এর গর্দান উড়িয়ে দেই। তিনি বললেন, ‘ওকে যেতে দাও। (অন্য বর্ণনায় তিনি বললেন) না, আমি মহান আল্লাহ তাআলার নিকট পানাহ চাই, তুমি যদি এমন কাজ কর, তাহলে লোকেরা বলবে, আমি আমার সাথীদের হত্যা করি। (তোমরা না জানলেও আমি জানি) তার এমন কিছু সঙ্গী-সাথী রয়েছে, যাদের নামাযের তুলনায় তোমাদের নিজের নামায এবং তাদের রোজার তুলনায় তোমাদের নিজেদের রোজাকে তুচ্ছ মনে হবে তোমাদের নিকট। অথচ এরা ক্বুরআন পাঠ করে ঠিকই, কিন্তু ক্বুরআন তাদের কণ্ঠনালীর নিম্নদেশে প্রবেশ করে না। এরা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে, যেমন তীর শিকার ভেদ করে বেরিয়ে যায়। অন্য বর্ণনায় এসেছে, লোকটি চলে যাওয়ার পর রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বললেন, ঐ ব্যক্তির বংশ থেকে এমন কিছু লোক আসবে যারা ক্বুরআন পড়বে ঠিকই, কিন্তু ক্বুরআন তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা ইছলাম থেকে এমনভাবে বের হয়ে যাবে যেমন শিকারের দেহ ভেদ করে তীর বের হয়ে যায়। এই ব্যক্তিই ছিল প্রথম খারেজীযে নবী করীম ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের বণ্টনের ব্যাপারে প্রশ্ন তোলে এবং নিজ প্রবৃত্তির রায়কে প্রাধান্য দেয় অর্থাৎ নিজ নফসের আনুগত্য করে। (বুখারী শরীফঃ ৩৬১০, ৭৪৩২,  মুসলিম শরীফ ১০৬৩, ১০৬৪; মিশকাত ৫৮৯৪)

অতএব এটা স্পষ্ট হয়ে গেলো যে এইযে সালাফি আহলে হাদিসের কথিত যুবক য়ালিম সম্প্রদায় রয়েছে যারা মনোমুগ্ধকর ভালো হক্ব কথা বলছে ঠিকিই কিন্তু তা তাদের নিজেদের কলবেই ঢুকছেনা সেখানে (یَتۡلُوۡا عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتِہٖ) এঁর মিছদ্বাক হিসেবে তাদেরকে চিন্তা করাই হাস্যকর।

এবার আসি, দ্বিতীয় গূনের ব্যপারে। দ্বিতীয় গূন কি? (وَ یُزَکِّیۡہِمۡ) আমার পেয়ারে হাবীব ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম তোমাদের নফসের তাজকিয়া করে থাকেন। তামাম দুনিয়ার মধ্যে যতো ফেরকা, যতো দল মত আছে, তাদের সবাইকে সম্মান ও ইজ্জতের সাথেই বলছি, তোমাদের মধ্যে যদি এই গূন না থাকে তাহলে মিম্বরে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম থেকে সরে দাড়াও। টাকার বিনিময়ে করা ওয়াজ নসিহতকে দ্বীনের কাজ হিসেবে বলা ছেড়ে দাও। নিজেকে আর য়ালিম বলনা। য়ালিম তখন বলবে যখন সুন্নতে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামে এসে যাবে। আর মুবাল্লীগদের জন্যে সুন্নতে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম হচ্ছেন তিনি কুরআনের আয়াত পাঠ করে শ্রবণকারীদের কলবকে রৌওশন করে দিবে। (وَ یُزَکِّیۡہِمۡ) আর তোমাদের নফসের তাজকিয়া করে থাকেন। এরপর (وَ یُعَلِّمُہُمُ الۡکِتٰبَ وَ الۡحِکۡمَۃَ) প্রথমে তো তিলাওয়ার দ্বারা আয়াত শরীফের হুকুম ও আহকাম নূর সহ সিনার মধ্যে ইন্সটল করে দেবেন। যা রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার কলবে আল্লাহ পাক জিব্রাইল য়ালাইহিছ ছালাম দ্বারা ইঙ্ক্রিপ্টেড অবস্থায় ইন্সটল করিয়ে দেন আযাযিলের বাহিনী শায়াতিন নামক ভাইরাসদের আক্রমণ ছাড়া। হুজুরে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার মাকাম এমন যে তিনি উনার কলবে ইন্সটল করা সেই কালামে নূরুল্লাহ উম্মতের কলবে ইন্সটল করে দিবেন। একারনেই (یَتۡلُوۡا عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتِہٖ) তিনি পাঠ করেন আমার আয়াত তোমাদের উপর আর তোমাদের নফসের তাজকিয়া করে থাকেন। (وَ یُعَلِّمُہُمُ الۡکِتٰبَ وَ الۡحِکۡمَۃَ) আর এই যে কিতাব আল ক্বুরআন এর ইলিম তোমাদের হাদিয়া করে থাকেন। (وَ الۡحِکۡمَۃَ) আর এই কিতাবের যে রাজ, যা আম পাবলিক বা সাধারণ মানুষের বোঝের বাহীরে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম সেই হিকমত বা ঈলমও তোমাদের আতা করেন।

এখন তিন জিনিষ এখান থেকে ক্লিয়ার হয়ে গেছে। (یَتۡلُوۡا عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتِہٖ) তিনি আয়াত শরীফকে ট্র্যান্সফার করেন তিলাওয়াত দ্বারা আর তোমাদের সিনার মধ্যে তা ইন্সটল করে দেন নূর সহ যা উনার সিনার মধ্যে ইন্সটল করে দিয়েছিলেন আল্লাহ পাক। (وَ یُزَکِّیۡہِمۡ) আর তোমাদের পাক পবিত্র করেন, তোমাদের নফসের তাজকিয়া করে থাকেন। আর তোমাদের সিনায় এই কিতাবের ইলিমও ইন্সটল করে দেন, এছাড়াও ইন্সটল করেন কিতাবের ইলমের সাথে সেটা গভীরভাবে বোঝার হিকমত। এখন তোমরা আমাকে বলো, এখানে একটা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছেঃ রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম যাদের মধ্যে এই তিন জিনিষ ইন্সটল করে দিয়েছেন তারাই কি হাক্বিকি য়ালিম নন? তাহলে সেই তরীকায় শতাব্দীর পর শতাব্দী যারা এই ধারা অব্যাহত রেখে চলেছেন তারাই কি মূল য়ালিম নন? নাকি কথিত সার্টিফিকেট ওয়ালা মুল্লারাই হাক্বিকি য়ালিম যাদের মধ্যে এই তিন গূন বিদ্যামান নাই? এখন কেউ ফেইক না রিয়েল এর প্রমান কীভাবে হবে? যদি রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম থেকে তালীমের এই পর্যন্ত ধারাবাহিকতা ঠিক থাকে তাহলে এই তিন গুন মওজুদ থাকবে। আর সেটা কি কি? (یَتۡلُوۡا عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتِہٖ وَ یُزَکِّیۡہِمۡ وَ یُعَلِّمُہُمُ الۡکِتٰبَ وَ الۡحِکۡمَۃَ) অতএব উক্ত তিন জিনিসের নূর তোমার সিনায় যদি য়ালিম দাবিকারী ইন্সটলে ব্যর্থ হয় তাহলে বুঝে নেবে সে ফেইক য়ালিম। (یَتۡلُوۡا عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتِہٖ وَ یُزَکِّیۡہِمۡ) আর যদি তার ছ্বহবতে তোমার নফসের তাজকিয়া না হয় তাহলে সে ফেইক, মিথ্যা য়ালিম। আর এই কিতাবের ঈলম ও হিকমত তথা তাবিল, বাতেনি তাফসীর তোমার ক্বলবে সিনায় ইন্সটল করতে না পারে তাহলে সে ফেইক মিথ্যা য়ালিম। যে তায়লীম ক্রমান্বয়ে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার থেকে এসেছে বা উনি সরাসরি কাউকে রুহানীভাবে শিক্ষা দিয়েছেন তার মধ্যে এই তিন জিনিসের ক্ষমতা মওজুদ থাকবেই। না থাকলে ফেইক। তুমি তার ছ্বহবতে বসবে, সে তোমাদের উপর আয়াত পাঠ করবে আর এর নূর তোমার সিনায় ইন্সটল হয়ে যাবে (یَتۡلُوۡا عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتِہٖ)। তুমি সেই আলীমের ছ্বহবতে বসবে তিনি দৃষ্টি দিয়ে তোমার নফসের তাজকিয়া করে দেবেন। নিজে নিজেই উপলব্ধি করবে যে জীবন বদলে যাচ্ছে। অটোম্যাটিক গুনাহের সাথে শত্রুতা সৃষ্টি হয়ে যাবে। কোন কিছুই করার দরকার নাই, কেবল তার সোহবতেই বসে থাকো এতেই তোমার জীবন বদলে যাবে বুঝতে পারবে যে আলীমের দেখা পেয়ে গেছো। অতএব মানুষকে ছ্বহবতে বসিয়ে তাদের নফছের তাজকিয়া করাই ছুন্নতে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম। আর এরূপ মানুষকেই আহলে জিকর বলা হয়ে থাকে যাদের থেকে দ্বীন শিখতে মহান আল্লাহ পাক উনার সরাসরি হকুম বিদ্যমানঃ (فَسۡـَٔلُوۡۤا اَہۡلَ الذِّکۡرِ اِنۡ کُنۡتُمۡ لَا تَعۡلَمُوۡنَ) দ্বীনের কোন বিষয়ে তোমরা যদি না জানো তাহলে যারা আমার আহলে জিকর বা (یَتۡلُوۡا عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتِہٖ وَ یُزَکِّیۡہِمۡ وَ یُعَلِّمُہُمُ الۡکِتٰبَ وَ الۡحِکۡمَۃَ) এর তিন কুসুসিয়াত ওয়ালা য়ালিম তাদের থেকে জেনে নাও, বলা হয়নি ফেইসবুকার, ইউটিউবার, বা টেলিভিশন মুল্লা থেকে ঈলম, দ্বীন অর্জন করতে।

মানুষ ডিগ্রী ওয়ালা মুলভি খুব পছন্দ করে আজকাল, তাই ভাবলাম মুলবির সঙ্গা দেই, যেনো কথাবার্তা বললে হুস থাকে কোথায় কি বলছে। তাই যারা জ্ঞানি তারা কি করবে? ডিগ্রী ওয়াল মুলবি খুজবে ফেইসবুক, ইউটিউব, টেলিভিশনে নাকি (یَتۡلُوۡا عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتِہٖ)র ফায়েজ তার সিনার মধ্যে ফিল হচ্ছে কিনা সেটা দেখবে? অতঃপর দেখবে (وَ یُزَکِّیۡہِمۡ) সে কি তাদের নফছের তাজকিয়া করতে সক্ষম কি না। তো নফছের তাজকিয়া করা কি হলো? ছুন্নতে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম।

আজকে মানুষ যখন য়ালিম উলামার নিকট যায়, তারা যে ক্বুরআনুল কারিমের আয়াত শরীফ পাঠ করে, তখন কি সে এই পজিশনে উপস্থিত থাকে? (یَتۡلُوۡا عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتِہٖ) না বরং তখন যারা শুনতে যায় তাদের অশিকাংশই গাফেল থাকে, বিলিভ হয়না? তাহলে যেকোন ক্বুরআনখানীতে, মিলাদ মাহফিলের আলোচনায় চেয়ে দেখ মনোযোগ দিয়ে, দেখবে অধিকাংশ মোবাইলে ব্যাস্ত নতুবা গল্পে। এর কারন কি? এর কারন কোন য়ালিম আজ পর্যন্ত তাদের উপর আয়াত শরীফ পাঠ করে আয়াত শরীফের হুকুম আহকাম সহ নূর মুবারক ইন্সটল করতে পারেনাই তাই তারা মালিকের ঐ হুকুমেরও ভয় করেনা (وَ اِذَا قُرِیٴَ الۡقُرۡاٰنُ فَاسۡتَمِعُوۡا لَهٗ وَ اَنۡصِتُوۡا لَعَلَّکُمۡ تُرۡحَمُوۡنَ) যখন (তোমাদের সম্মুখে) আল কুরআনের তিলাওয়াত করা হয়, তখন তোমরা মনোযোগের সাথে উনাকে শ্রবণ করবে এবং নীরব নিশ্চুপ হয়ে থাকবে, যাতে করে তোমরা রহমত লাভ করতে পারো। (ছুরাহ আল আয়রফ ৭/২০৪) এখন আমাদের জানা য়ালীমের পাঠ করা আয়াত শরীফ ও উনার নূর মুবারক কীভাবে ইন্সটল হবে? এরা যারা য়ালিম তারা নিজেরাই জানেনা যে য়ালিম হতে হলে উক্ত ৩ গূনের অধিকারী হতে হবে।

আজকে আমাদের যারা কথিত দুনিয়া খেয়ে মোটা মোটা পেট বানানো য়ালিম, বাবা, মুফতি, মুহাদ্দিছেরা, তারা যদি (یَتۡلُوۡا عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتِہٖ) এর মিছদ্বাক হতো তাহলে মসজিদের ছফ ভরাই থাকতো ফজর ইশায় আর জুমুয়াহ শরীফের নামাজে। অথচ কি দেখা যায়? জুমুয়াহ শরীফের খুতবার সময় আমাদের এইসব মোটা মোটা আল্লামার আয়াত পাঠের বিপরীতে মসজিদের বাহীরে বসে মানুষ আড্ডা দিচ্ছে, অনেকে তো আবার খুৎবাকেই বেছে নেয় ঘুমানোর মুক্ষম সময় মনে করে। আবার অনেকে ইকামত শুরু হলেই মসজিদে ঢুকে দুই রাকাত পড়েই দেয় দৌড়।

এছাড়াও যে নিজেকে ওয়ারাছাতুল আম্বিয়া ওয়াল মুরছালিন বলে সমাজে জাহির করতে চায়, সে প্রথমেই জেনে নিবে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার ওয়ারিশ হতে হলে নবীজি নিজের পরিচয় কীভাবে দিচ্ছেন ওয়ারিশ দাবীদারদের ব্যপারে তা জানা। জাবের বিন আবদুল্লাহ রদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে বর্নিত তিনি বলেন, রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বলেছেনঃ (إِنَّ اللَّهَ لَمْ يَبْعَثْنِي مُعَنِّتًا وَلَا مُتَعَنِّتًا وَلَكِنْ بَعَثَنِي مُعَلِّمًا مُيَسِّرًا) নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তায়ালা আমাকে কঠোরতা আরোপকারী কিংবা দ্বীনের কঠিন বিধান জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া ব্যক্তি হিসেবে নয়; বরং সহজভাবে তায়লীম প্রদানকারী এক মুয়াল্লিম হিসেবে প্রেরণ করেছেন। (মুছলিম শরীফ ১৪৭৮)

তিনি উক্ত হাদিছে পাকে ৪ টি জিনিসের কথা বলেছেন, দুইটা মুয়াল্লীম হিসেবে উনার মধ্যে নাই, আর মুয়াল্লীম হিসেবে দুইটা উনার মধ্যে আছে, বা আল্লাহ পাক দিয়ে পাঠিয়েছেন।

যা নাই সেগুলো হলোঃ

مُعَنِّتًا - শাব্দিক অর্থঃ কষ্টদাতা, কষ্ট সৃষ্টি করে এমন ব্যক্তি, কষ্ট দিয়ে পরীক্ষা নেয় বা ভার চাপায়, যেকোন কিছুতে ‌বাধ্য করে এমন কঠোর শাসক।

مُتَعَنِّتًا - শাব্দিক অর্থঃ জেদ করে দ্বীনে কষ্টকর বিষয় চাপানো ব্যক্তি, অহংকারপূর্ণভাবে দ্বীনের কঠোরতা আরোপকারী, হ্যাঁ আমি বলেছি, তাই মানোএমন আচরণকারী ব্যক্তি, যুক্তিহীন এবং গোঁয়ার।

যা আছে সেগুলো হলোঃ

مُعَلِّمًا - শাব্দিক অর্থঃ ঈলম শিক্ষাদানকারী, যিনি মানুষকে ঈলম শিক্ষা দেন, গাইড বা দীক্ষাদানকারী মুর্শিদ,

مُيَسِّرًا - শাব্দিক অর্থঃ সহজকারী, সহজ পথ দেখানো ব্যক্তি, যিনি জটিলতাকে সরিয়ে সহজতা আনার চেষ্টা করেন, যিনি সহজে বুঝিয়ে দেন জটিল করেন না।

এখন বুঝে নাও তোমরা যে য়ালীম য়ালীম জিকির করো যার তার বিষয়ে, তারা কি আদৌ য়ালীম?

অতএব, একজন প্রকৃত য়’লিম হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি শুধু মুখে নয় বরং অন্তর দিয়ে ঈলম ধারণ করেন, এবং মানুষের অন্তরে নূর সৃষ্টি করেন। মানুষকে বেদ্বীন থেকে দ্বীনদার বানান। নবীর রেখে যাওয়া দ্বীনের উপর উনার উম্মতরা যাতে সঠিকভাবে পরিচালিত হয় সেই চেষ্টায় রত থাকেন।

ক্বুরআন সুন্নাহ অনুসারে বর্তমানে ধর্ম ব্যবসায়ী য়া’লীম কারা?

ক্বুরআন সুন্নাহ অনুসারে বর্তমানে ধর্ম ব্যবসায়ী য়া’লীম কারা?

কেউ যদি উলামায়ে-ছু নাও হয়ে থাকে তাহলেও তার মধ্যে যতক্ষন না পবিত্র আল ক্বুরআনে বর্নিত ৫টি গূন পাওয়া যাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে হাক্বিকি য়া’লীমই হতে পারবেনা মুল্লা, মুন্সী, খতীব, ওয়াজি, মুফতি, মুহাদ্দিছ হতেই পারে, কিন্তু য়া’লীম নয়সমাজে সাধারণত য়া’লীম বলে তাকেই মনে করা হয়, যে মাদ্রাসায় লিখাপড়া করেছে, করেঃ মসজিদের ইমাম, খতীব কিংবা মুফতি মুহাদ্দিছ হয়েছে, কিন্তু একজন সাধারণ লেবেলের য়া’লীমের সঙ্গা হচ্ছেঃ যিনি ঈলম অর্জন করেছেন, বুঝেছেন এবং সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করেনতবে ক্বুরআন ও ছুন্নাহ-এর আলোকে একজন প্রকৃত, হাক্বিকি য়া’লীম শুধু ‘ধর্মের জ্ঞানে জ্ঞানী’ নন; বরং তিনি হলেন নবী রছুলদের ওয়ারিশ, যাদের উপর অর্পিত হয়েছে তা’য়লীম, তালক্বীন, তিলাওয়াত, তাজকিয়া, শিক্ষা ও দীক্ষা-র ভার

পবিত্র আল-ক্বুরআনের চারটি আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ তা’য়ালা রছূলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার উপর যে দায়িত্ব অর্পন করেছিলেন সেগুলো হলোঃ

১. মানুষের উপর আয়াত তিলাওয়াত করা।

২. নফছের ও ক্বলবের তাজকিয়া করা।

৩. কিতাবের জাহির বাতিন ঈলম শিক্ষা দেওয়া।

৪. সাথে হিকমতের দীক্ষাও দেওয়া।

৫. এছাড়া এমন সব মা’য়রিফাতের দীক্ষাও দেওয়া যা মানুষ জানেনা।

এই চারটি গূন যার মধ্যে রয়েছে সেই য়া’লীম, কেবল উনাদের মাধ্যমেই মানুষ হেদায়াতপ্রাপ্ত হতে পারবেঅন্য কেউ মানুষকে হেদায়েত তো দূরের বিষয় উল্টো গুমরাহ করে দিবে যদি এগুলোর অধিকারী না হয়ে দ্বীনের ঠিকাদার সাজে

য়া’লীমের কাজ শুধু ফতোয়া দেওয়া নয়, শুধু পাঠ্যপুস্তকের ঈলম শেখানোও নয়, বরং তার প্রকৃত দায়িত্ব হলোঃ মানুষের অন্তরকে নূরানী আয়াত শরীফ দ্বারা জিন্দা করা, তাদের নফছ ও ক্বলবকে পরিশুদ্ধ করা, ক্বুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফের জাহেরি ও বাতেনি ঈলম শেখানো, এবং বাস্তব জীবনে হিকমতের আলোকে পথচলার দীক্ষা সহ মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার মা’য়রিফাতের দীক্ষাও দেওয়া

একজন প্রকৃত য়া’লিম হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি শুধু মুখে নয় বরং অন্তর দিয়ে ঈলম ধারণ করেন, এবং মানুষের অন্তরে নূর সৃষ্টি করেনমানুষকে বেদ্বীন থেকে দ্বীনদার বানাননবীর রেখে যাওয়া দ্বীনের উপর উনার উম্মতরা যাতে সঠিকভাবে পরিচালিত হয় সেই চেষ্টায় রত থাকেন

যে নিজেকে ওয়ারাছাতুল আম্বিয়া ওয়াল মুরছালিন বলে সমাজে জাহির করতে চায়, সে প্রথমেই জেনে নিবে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার ওয়ারিশ হতে হলে নবীজি নিজের পরিচয় কীভাবে দিচ্ছেন ওয়ারিশ দাবীদারদের ব্যপারেঃ জাবের বিন আবদুল্লাহ রদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে বর্নিত তিনি বলেন, রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বলেছেনঃ (إِنَّ اللَّهَ لَمْ يَبْعَثْنِي مُعَنِّتًا وَلَا مُتَعَنِّتًا وَلَكِنْ بَعَثَنِي مُعَلِّمًا مُيَسِّرًا) নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তা’য়ালা আমাকে কঠোরতা আরোপকারী কিংবা দ্বীনের কঠিন বিধান জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া ব্যক্তি হিসেবে নয়; বরং সহজভাবে তা’য়লীম প্রদানকারী এক মু’য়াল্লিম হিসেবে প্রেরণ করেছেন (মুছলিম শরীফ ১৪৭৮)

হইছে? খুশি? এতো গেলো খোদ রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার মুখে নিজেকে মু’য়াল্লীম রূপে য়া’লীমের পরিচয়, এবার দেখি পবিত্র আল ক্বুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি কি বলেনঃ ক্বুরআনের মধ্যে বর্নিত ঐসকল গূন যতক্ষণ কারো মধ্যে পাওয়া যাবে না, ততক্ষন তাকে য়া’লীম বলা যাবে না, না তাদের থেকে দ্বীন শিখে ইছলামিক জীবন পরিচালনার অনুমতি কেউ পাবে বাস্তবে। কেননা ইছলামী ইতিহাসের এক বিশিষ্ট তাবেঈ, অত্যন্ত সম্মানিত মুহাদ্দিছ, য়া’লিম, ফকিহ ও বিখ্যাত স্বপ্ন বিশারদ ইমাম মুহাম্মদ ইবনু ছিরীন রাহমতুল্লাহ উনার উক্তি ইমাম মুছলিম উনার মুছলিম শরীফের মুকাদ্দিমায় উল্লেখ করেনযেখানে ইমাম মুহাম্মদ ইবনু ছিরীন রাহমতুল্লাহ বলেনঃ (قَالَ إِنَّ هَذَا الْعِلْمَ دِينٌ فَانْظُرُوا عَمَّنْ تَأْخُذُونَ دِينَكُمْ) নিশ্চয়ই এই ঈলম (জ্ঞান) হল দ্বীন, সুতরাং তোমরা কিভাবে ও কার কাছ থেকে তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছো, তা দেখে-শুনে গ্রহণ করো (মুছলিম শরীফ)

অতএব দ্বীনের শিক্ষা ও দীক্ষা কেবল প্রকৃত য়া’লীমের থেকেই গ্রহণ করা যায়েজএবং অবশ্যই যাচাই বাঁচাই করে তারপরএবার দেখি পবিত্র আল ক্বুরআন একজন মু’য়াল্লীমের কি কি কোয়ালিটি বর্ননা করেন

যখন আরব-আজম জাহেলিয়াত, অনাচার আর যুলুমে ডুবে ছিলো তখন মহান আল্লাহ তায়ালা রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামকে সেখানে কেবল নবী কিংবা রছুল হিসেবে নয়, বরং মু’য়াল্লীম হিসেবেই প্রেরণ করেন যাতে সঠিক দ্বীন, হক্ব ও হাক্বিকত মানুষ বুঝে, মেনে, জীবন পরিচালনা করেতবে এই পাঠানোর পেছনে নবী ইব্রাহীম ও ইছমাঈল য়ালাইহিমাছ ছালাম উনাদের দোয়াই ছিলো মূল সুত্রপাতউনারা আর্জি রাখেন মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নিকট এইভাবেঃ (رَبَّنَا وَ ابۡعَثۡ فِیۡهِمۡ رَسُوۡلًا مِّنۡهُمۡ یَتۡلُوۡا عَلَیۡهِمۡ اٰیٰتِكَ وَ یُعَلِّمُهُمُ الۡكِتٰبَ وَ الۡحِكۡمَۃَ وَ یُزَكِّیۡهِمۡ ؕ اِنَّكَ اَنۡتَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَكِیۡمُ) হে আমাদের রব! আপনি তাদের মধ্য থেকে তাদেরই একজনকে রছুল বানিয়ে পাঠিয়ে দিন, যিনি তাদের উপর আপনার আয়াত শরীফ সমূহ তিলাওয়াত করবেন, এবং পবিত্র কিতাব (আল ক্বুরআনের জাহেরি বাতেনি) ঈলম শিক্ষা দেবেন আর (সেই অনুসারে চলার কৌশল) হিকমতের দীক্ষািবেন, এবং তাদের নফছ ও ক্বলবের তাজকিয়া করবেননিশ্চয়ই আপনি মহা পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় (ছুরা বাক্বরহ ২/১২৯)

উনারা উনাদের বংশ থেকে একজন রছুল প্রেরণের আর্জি পেশ করেন, যার বৈশিষ্ট্য হবে, তিনিঃ

প্রথমতোঃ মানুষের উপর ক্বলামুল্লাহ শরীফের আয়াত শরীফ তিলাওয়াতের ক্ষমতা রাখবেন

দ্বিতীয়তঃ ক্বলামুল্লাহ শরীফের সকল জাহির বাতিন ঈলম মানুষকে শিক্ষা দিবেন

তৃতীয়তঃ হিকমতের দীক্ষা দিবেন

চতুর্থতঃ তাদের নফছের তাজকিয়া করে দিবেন

মহান আল্লাহ তায়ালা উনাদের দোয়া কবুল করলেন, করে তিনি জবাবে বললেনঃ (ہُوَ الَّذِیۡ بَعَثَ فِی الۡاُمِّیّٖنَ رَسُوۡلًا مِّنۡہُمۡ یَتۡلُوۡا عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتِہٖ وَ یُزَکِّیۡہِمۡ وَ یُعَلِّمُہُمُ الۡکِتٰبَ وَ الۡحِکۡمَۃَ ٭ وَ اِنۡ کَانُوۡا مِنۡ قَبۡلُ لَفِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ) তিনিই সেই মহান সত্তা, যিনি জাহিল আরবদের মধ্যে থেকে তাদেরই একজনকে রছুল বানিয়ে পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের উপর মহান আল্লাহ তায়ালা উনার আয়াত শরীফ সমূহ তিলাওয়াত করেনআর তাদের নফছ ও ক্বলবের তাজকিয়া করেন, এবং পবিত্র কিতাব (আল ক্বুরআনের জাহেরি বাতেনি) লম শিক্ষা দেন, ও (বাতেনী য়ীলম বোঝার) হিকমত বা প্রজ্ঞার দীক্ষাও দেনঅথচ এ লোকগুলোই (রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম আসার) আগে (পর্যন্ত) সুস্পষ্ট গুমরাহীতে নিমজ্জিত ছিলো। (সূরাহ জুমুয়াহ শরীফ ৬২/২) মহান আল্লাহ তা’য়ালা তিনি একিই বিষয়ে আরো স্পষ্ট করেই বলেনঃ (كَمَاۤ اَرۡسَلۡنَا فِیۡكُمۡ رَسُوۡلًا مِّنۡكُمۡ یَتۡلُوۡا عَلَیۡكُمۡ اٰیٰتِنَا وَ یُزَكِّیۡكُمۡ وَ یُعَلِّمُكُمُ الۡكِتٰبَ وَ الۡحِكۡمَۃَ وَ یُعَلِّمُكُمۡ مَّا لَمۡ تَكُوۡنُوۡا تَعۡلَمُوۡنَ) (সঠিক পথের সন্ধান দেওয়ার জন্যে) যেভাবে আমি তোমাদের মধ্যে থেকেই একজনকে রছূল বানিয়ে পাঠিয়েছি, যিনি তোমাদের উপর আমার আয়াত শরীফ সমূহ তিলাওয়াত করবেন, আর তোমাদের নফছ ও ক্বলবের তাজকিয়া করে দেবেন, এবং পবিত্র কিতাব (আল ক্বুরআনের জাহেরি বাতেনি) লম শিক্ষা দেবেন আর (বাতেনী য়ীলম বোঝার) হিকমত বা প্রজ্ঞার দীক্ষা সহ এমন বিষয়েরও দীক্ষা দিবেন, যা এর আগে তোমরা জানতেই না। (ছুরা বাকারা শরীফঃ ২/১৫১)

মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি তো দোয়া কবুল করলেন, কিন্তু তিনি একটি সুক্ষ পরিবর্তন করলেনইব্রাহীম য়ালাইহিছ ছালাম তাজকিয়াতুন্ন নফছ ও ক্বলবকে সবার শেষে চেয়েছেন উনার দোয়ায়, কিন্তু মহান আল্লাহ তায়ালা সেটাকে দুই নাম্বারে নিয়ে এসেছেন এনে বলতেছেনঃ (لَقَدۡ مَنَّ اللّٰهُ عَلَی الۡمُؤۡمِنِیۡنَ اِذۡ بَعَثَ فِیۡهِمۡ رَسُوۡلًا مِّنۡ اَنۡفُسِهِمۡ یَتۡلُوۡا عَلَیۡهِمۡ اٰیٰتِهٖ وَ یُزَكِّیۡهِمۡ وَ یُعَلِّمُهُمُ الۡكِتٰبَ وَ الۡحِكۡمَۃَ ۚ وَ اِنۡ كَانُوۡا مِنۡ قَبۡلُ لَفِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ) নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তায়ালা মু’মিনদের উপর বড় অনুগ্রহ করেছেন, যখন তিনি তাদেরই মধ্যে থেকে তাদেরই একজনকে রছূল হিসেবে প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের উপর মহান আল্লাহ তায়ালা উনার আয়াত শরীফ সমূহ তিলাওয়াত করআর তাদের নফছ ও ক্বলবের তাজকিয়া কর, এবং পবিত্র কিতাব (আল ক্বুরআনের জাহেরি বাতেনি) ঈলম শিক্ষা দেন আর (সেই অনুসারে চলার কৌশল) হিকমতেরও দীক্ষা দেনঅথচ এ লোকগুলোই (রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম আসার) আগ (পর্যন্ত) সুস্পষ্ট গুমরাহীতে নিমজ্জিত ছিলো। (ছুরা আলে ইমরান ৩/১৬৪)

অতএব স্পষ্ট ক্লিয়ার কথাবার্তা, রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম শুধু আমাদের জন্যে নয় বরং পুরো কায়েনাতের জন্যেই মু’য়াল্লীমআর উনাকে যেসকল গূন দিয়ে প্রেরণ করা হয়েছে সেগুলোর পূর্ন হিসাব দেওয়া অসম্ভব, তবে সর্বনিম্ন গূন ক্বুরআন হাদিছে, মহান আল্লাহ তা’য়ালা, ইব্রাহীম ও ইছমাঈল য়ালাইহিমাছ ছালাম, ও খোদ রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম থেকে যা যা পেলাম তা হলোঃ

ইব্রাহীম ও ইছমাঈল য়ালাইহিমাছ ছালামের দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনাকে দেনঃ

১. মানুষের উপর আয়াত তিলাওয়াত করার ক্ষমতা।

২. নফছের ও ক্বলবের তাজকিয়া করার ক্ষমতা।

৩. কিতাবের জাহির বাতিন ঈলম শিক্ষা দেওয়ার ক্ষমতা।

৪. সাথে হিকমতের দীক্ষা দেওয়ার ক্ষমতা।

৫. এছাড়া এমন সব মা’য়রিফাতের দীক্ষাও দেওয়া যা মানুষ জানেনা তার ক্ষমতাও।

আর রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বলেন, মু’য়াল্লীম হিসেবে তিনিঃ (إِنَّ اللَّهَ لَمْ يَبْعَثْنِي مُعَنِّتًا وَلَا مُتَعَنِّتًا وَلَكِنْ بَعَثَنِي مُعَلِّمًا مُيَسِّرًا) নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তা’য়ালা আমাকে কঠোরতা আরোপকারী কিংবা দ্বীনের কঠিন বিধান জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া ব্যক্তি হিসেবে নয়; বরং সহজভাবে তা’য়লীম প্রদানকারী এক মু’য়াল্লিম হিসেবে প্রেরণ করেছেন (মুছলিম শরীফ ১৪৭৮)

তিনি উক্ত হাদিছে পাকে ৪ টি জিনিসের কথা বলেছেন, দুইটা মু’য়াল্লীম হিসেবে উনার মধ্যে নাই, আর মু’য়াল্লীম হিসেবে দুইটা উনার মধ্যে আছে, বা আল্লাহ পাক দিয়ে পাঠিয়েছেন

যা নাই সেগুলো হলোঃ

· مُعَنِّتًا - শাব্দিক অর্থঃ কষ্টদাতা, কষ্ট সৃষ্টি করে এমন ব্যক্তি, কষ্ট দিয়ে পরীক্ষা নেয় বা ভার চাপায়, যেকোন কিছুতে ‌বাধ্য করে এমন কঠোর শাসক

· مُتَعَنِّتًا - শাব্দিক অর্থঃ জেদ করে দ্বীনে কষ্টকর বিষয় চাপানো ব্যক্তি, অহংকারপূর্ণভাবে দ্বীনের কঠোরতা আরোপকারী, “হ্যাঁ আমি বলেছি, তাই মানো” এমন আচরণকারী ব্যক্তি, যুক্তিহীন এবং গোঁয়ার

যা আছে সেগুলো হলোঃ

· مُعَلِّمًا - শাব্দিক অর্থঃ ঈলম শিক্ষাদানকারী, যিনি মানুষকে ঈলম শিক্ষা দেন, গাইড বা দীক্ষাদানকারী মুর্শিদ,

·  مُيَسِّرًا - শাব্দিক অর্থঃ সহজকারী, সহজ পথ দেখানো ব্যক্তি, যিনি জটিলতাকে সরিয়ে সহজতা আনার চেষ্টা করেন, যিনি সহজে বুঝিয়ে দেন জটিল করেন না

এখন বুঝে নাও তোমরা যে য়া’লীম য়া’লীম জিকির করো যার তার বিষয়ে, তারা কি আদৌ য়া’লীম?

এবার আসি টেলিভিশন, ফেইসবুক, ইউটিউব আর ওয়াজের মাহফিলে যাদের মিঠা মিঠা কথায় তাদের য়া’লীম মনে করে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছি তারা কি ক্বুরআন ছুন্নাহ-এর মাপকাটিতে আসলেই য়া’লীম? আমাদের অনুসরনীয় যুগের মুছলিমরা কিন্তু ক্বুরআন হাদীছের বুলি আওড়ানো যে কাউকেই “য়া’লীম” হিসেবে মেনে নিতেন নাকারণ, যারা সাধারণ মানুষ, দ্বীন সম্পর্কে অভিজ্ঞ না, তাদের সামনে যদি কোন একজন ইহুদী বা নাছারাও ক্বুরআন হাদিছ অধ্যায়ন করে ইছলামিক লেবাস পরে দ্বীনি কথা বলে, তাহলে তোমরা কিন্তু বুঝতেই পারবেনা যে এই লোকটা তো মুছলিমই না, য়া’লীম তো অনেক দূরের বিষয়। জহুরী ব্যতীত আম-পাবলিক যেভাবে কোনটা রত্ন আর কোনটা সস্তা পাথর, তা নির্নয় করতে পারেনা, অনুরূপ একজন প্রকৃত য়া’লীম ব্যতীত কোন একজন যদি নিজেকে য়া’লীম দাবি করে তাহলে আম পাবলিকও তাকে বুঝতে বা চিনতে পারবেনা

ঠিক এই কারনেই তাবেঈ, তবে-তাবেঈন রমতুল্লাহী য়ালাইহিমদের যুগ থেকেই, যখন থেকে মুছলমানদের মাঝে “উলামায়ে ছু” তথা (মন্দ য়া’লিম) ও আ’য়িম্মায়ে দ্বোয়াল্লিন (পথভ্রষ্ট ইমাম) ঢুকে গেছে, আমাদের ঐ স্বর্ণযুগের য়া’লিম-উলামারা তখন মুছলিম মিল্লাতকে বার বার সতর্ক করে গেছেন যে, ইছলাম শেখার জন্য যাকে তাকে “মুর্শিদ” বা য়া’লীম হিসেবে গ্রহণ করবেনা, যার তার কথা বা ওয়াজ শোনা বা তার লিখিত কিতাব অধ্যায়ন করবেনাদ্বীনের ব্যপারে “প্রকৃত আলেম তথা আহলে জিকর” ছাড়া অপরিচিত, অজ্ঞ লোকদেরকে য়া’লিম মনে করে তাদের কথা বিশ্বাস করবে নাযদি করো তাহলে তুমি তোমার দ্বীন তোমার ঈমান ও আমলকেই ধ্বংস করবে

অপরিচিত লোকদের কথা (ওয়াজ, নসিহত) শোনা খুবই মারাত্মক একটা বিষয়কারণ ‘আহলুল বিদ’য়াহ’ (বিদ’য়াতী য়া’লীম) ও ‘আহলুল হাওয়া’ (নফসের পূজারী) য়া’লীমদের খুব সাধারণ সস্থা একটা কৌশল হচ্ছেঃ তারা শুরুতেই তাদের “আকীদাহ” লুকিয়ে রাখবে, প্রথমেই মানুষের কাছে নিজের ‘আকীদাহ্ ও মানহাজ’ (মানহাজ (منهج) আ’য়রবী শব্দ যার অর্থ পদ্ধতি, পথ বা মতবাদ। সম্মানিত দ্বীন ইছলামে আকীদাহ পোষণ ও আমল পালন করার পদ্ধতিগত কৌশলকে মানহাজ বলা হয়) প্রকাশ না করে কিছুদিন মেঘ যেদিকে, ছাতা সেদিকে হয়ে থাকবে, ভাইরাল ইস্যুতে পাবলিক সেন্টিমেন্ট যেদিকে সেও সেদিকে আওয়াজ তুলবে ওয়াজ-নসিহত করবে, এইভাবে মিষ্টি মধুর ওয়াজ করে যখন শ্রোতাদের (মূলত অন্ধভক্তদের) মন জয় করে সংখ্যা বাড়িয়ে লক্ষ্যস্থলে পৌঁছে যাবে, তখন নিজেদের ‘দ্বলালাহ’ (ভ্রষ্টতা) ও ‘শুবুহাত’ (বিভ্রান্তি/doubt) মানুষের মাঝে প্রচার করা শুরু করবেআর এভাবেই তারা তাদের অন্ধভক্তদের ব্রেইন ওয়াশ করে থাকে আর তাদের সাথে বোনাস হিসেবে থাকবে আযাযিল ও তার গোয়েন্দা তোমার নফছের মধ্যে থাকা ক্বরিন জীন, এরাই তোমার মনে উঠাই দিবে যে “তিনি তো হক্ব কথাই বলেন”, “তিনি তো ক্বুরআন ও হাদীছের রেফারেন্স দিয়েই কথা বলেন” উনাকে ফলো না করে আমি আর কাকে ফলো করবো? এরূপ অনেক ভুল যায়গায় সঠিক চিন্তা করাবে নফসে থাকা ক্বরিন শয়তান, কিন্তু দ্বীনি ঈলম ও হিকমতের কমতি থাকার দরুন তার গুমরাহিতে পরিপূর্ন কথায় অনেক দ্বীনদার নিষ্ঠাবান মুছলিমও শেষ পর্যন্ত গ্রহণ করে ফেলে, ফলে খুব সহজেই নিজের দ্বীনকে ধ্বংস মুখে ঠেলে দেয় (নাউযুবিল্লাহ)! এর প্রামান তো খোদ হাদিছ শরিফেই মিলে, যেমনঃ (قَالَ عَلِيٌّ رضى الله عنه سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ يَأْتِي فِي آخِرِ الزَّمَانِ قَوْمٌ حُدَثَاءُ الأَسْنَانِ، سُفَهَاءُ الأَحْلاَمِ، يَقُولُونَ مِنْ خَيْرِ قَوْلِ الْبَرِيَّةِ، يَمْرُقُونَ مِنَ الإِسْلاَمِ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ، لاَ يُجَاوِزُ إِيمَانُهُمْ حَنَاجِرَهُمْ، فَأَيْنَمَا لَقِيتُمُوهُمْ فَاقْتُلُوهُمْ، فَإِنَّ قَتْلَهُمْ أَجْرٌ لِمَنْ قَتَلَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ) মাওলা হযরত য়া’লী কাররমাল্লাহু ওয়াঝাহাহু য়ালাইহি ছালাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, শেষ যামানায় একদল লোকের আবির্ভাব হবে, “যারা হবে অল্পবয়সী এবং বুদ্ধিতে অপরিণত তারা সৃষ্টিকুলের সর্বোত্তম কথা বলবে (অর্থাৎ তাদের কথা শুনতে ভালো লাগবে, হক্ব কথার মতোই হবে), কিন্তু তারা ইলাম থেকে এমনভাবে বের হয়ে যাবে, যেমনকরে ধনুক থেকে তীর বেরিয়ে যায় আর তাদের ঈমান তাদের গলার নিচে নামবে না (অর্থাৎ ক্বলব পর্যন্ত পৌঁছবে না)সুতরাং তাদের যেখানে পাবে, হত্যা করবে; কেননা তাদের হত্যা করা কিয়ামতের দিনে হত্যাকারীর জন্য সওয়াবের কারণ হবে। (বুখারী শরীফ ৫০৫৭) এইখানে কোন অমুছলিম কাফেরের কথা বলা হচ্ছেনা, বরং খারেজীদের কথা বলা হচ্ছে।

এছাড়াও আবু ছাঈদ খুদরী রদ্বিআল্লাহু আনহু বলেনঃ আমরা রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের নিকটে উপস্থিত ছিলামতিনি গণীমতের কিছু মাল বণ্টন করছিলেনতখন বনু তামীম গোত্রের যুল খুওয়াইছারানামক এক ব্যক্তি এসে বলল, হে নবী! আপনি ইনছাফ করুনতখন রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বললেন, তোমার দুর্ভাগ্য! আমি যদি ইনছাফ না করি, তাহলে কে ইনছাফ করবে? আমি যদি ইনছাফ না করি, তাহলে তো তুমি ধ্বংসপ্রাপ্ত ও নিষ্ফল হবেছাইয়্যিদুনা হজরত উমর ইবনুল খত্তাব রদ্বিআল্লাহু আনহু বললেন, ইয়া রছুলাল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম! আপনি আমাকে অনুমতি দিন, আমি এর গর্দান উড়িয়ে দেইতিনি বললেন, ‘ওকে যেতে দাও। (অন্য বর্ণনায় তিনি বললেন) না, আমি মহান আল্লাহ তা’য়লার নিকট পানাহ চাই, তুমি যদি এমন কাজ কর, তাহলে লোকেরা বলবে, আমি আমার সাথীদের হত্যা করি। (তোমরা না জানলেও আমি জানি) তার এমন কিছু সঙ্গী-সাথী রয়েছে, যাদের নামাযের তুলনায় তোমাদের নিজের নামায এবং তাদের রোজার তুলনায় তোমাদের নিজেদের রোজাকে তুচ্ছ মনে হবে তোমাদের নিকটঅথচ এরা ক্বুরআন পাঠ করে ঠিকই, কিন্তু ক্বুরআন তাদের কণ্ঠনালীর নিম্নদেশে প্রবেশ করে নাএরা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে, যেমন তীর শিকার ভেদ করে বেরিয়ে যায়অন্য বর্ণনায় এসেছে, লোকটি চলে যাওয়ার পর রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বললেন, ঐ ব্যক্তির বংশ থেকে এমন কিছু লোক আসবে যারা ক্বুরআন পড়বে ঠিকই, কিন্তু ক্বুরআন তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে নাতারা ইলাম থেকে এমনভাবে বের হয়ে যাবে যেমন শিকারের দেহ ভেদ করে তীর বের হয়ে যায়তাদের আলামত হবে - তাদের মধ্যে এক ব্যক্তি থাকবে, যার এক হাত (অথবা স্তন) নারীর স্তনের মতো, অথবা একখণ্ড গোশতের মতো, যা নড়বড়ে হবেতারা মানুষের মধ্যে বিভাজনের সময়ে বেরিয়ে আসবে আবু ছাঈদ রদ্বিল্লাহু আনহু বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আমি এই কথা রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম থেকে শুনেছি, এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে হযরত য়া’লী য়ালাইহিছ ছালাম তাদের হত্যা করেছেন, আমি তখন উনার সঙ্গে ছিলামএরপর সেই ব্যক্তিকে (যার আলামত রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উল্লেখ করেছিলেন) আনা হয় এবং রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম যেমন বর্ণনা করেছিলেন ঠিক তেমনই পাওয়া যায় এরপর এই আয়াত নাজিল হয়ঃ (وَ مِنۡهُمۡ مَّنۡ یَّلۡمِزُكَ فِی الصَّدَقٰتِ ۚ فَاِنۡ اُعۡطُوۡا مِنۡهَا رَضُوۡا وَ اِنۡ لَّمۡ یُعۡطَوۡا مِنۡهَاۤ اِذَا هُمۡ یَسۡخَطُوۡنَ) তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যারা ছ্বদাকাহ বণ্টনের ব্যাপারে আপনাকে দোষারোপ করেঅতঃপর যদি তাদেরকে তা থেকে কিছু দেওয়া হয়, তারা সন্তুষ্ট হয়; আর যদি তা থেকে তাদেরকে না দেওয়া হয়, তখনই তারা অসন্তুষ্ট হয়ে পড়ে (ছুরাহ আত-তাওবাহ, আয়াত ৯/৫৮) এই ব্যক্তিই ছিল প্রথম খারেজীযে নবী করীম ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের বণ্টনের ব্যাপারে প্রশ্ন তোলে এবং নিজ নফছের রায়কে প্রাধান্য দেয় অর্থাৎ নিজ নফছের আনুগত্য করে। (বুখারী শরীফঃ ৩৬১০, ৬৯৩৩, ৭৪৩২,  মুলিম শরীফ ১০৬৩, ১০৬৪; মিশকাত ৫৮৯৪)

অতএব এটা স্পষ্ট হয়ে গেলো যে এইযে উলামায়ে ‘ছু’দের কথিত প্যান্ট শার্ট পরা যুবক স্কলার সম্প্রদায় রয়েছে যারা শুনতে মনোমুগ্ধকর, ভালো, হক্ব কথা বলছে ঠিকিই কিন্তু তা তাদের নিজেদের ক্বলবেই ঢুকছেনা, সেখানে (یَتۡلُوۡا عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتِہٖ) এঁর মিছদ্বাক হিসেবে তাদেরকে চিন্তা করাই হাস্যকর

এজন্যেই আহলে জিকিরেরা অপরিচিত কারো এবং কেউ খাটি আহলে ছুন্নাত নাকি ভেজাল আহলে ছুন্নাত, বা আহলে বিদআতের লোক কিনা, আলেম নাকি কুচক্রী? এই বিষয়গুলো ভালোভাবে যাচাই না করে তার কাছ থেকে দ্বীন-ইছলাম সম্পর্কে জ্ঞান নিতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন আর মহান আল্লাহ তা’য়ালা তিনি তো বলেই দিছেনঃ (فَسۡـَٔلُوۡۤا اَہۡلَ الذِّکۡرِ اِنۡ کُنۡتُمۡ لَا تَعۡلَمُوۡنَ) দ্বীনের কোন বিষয়ে তোমরা যদি না জানো তাহলে যারা আমার আহলে যিকর তাদের থেকে জেনে নাও(আল ক্বুরআন ২১/৭, ১৬/৪৩)

হাদিছ শরীফে এইসব য়ালিমদের মাক্বাম কত নিকৃষ্ট তাও দেখুনঃ (عَنْ أَبِي ذَرٍّ الغِفَارِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، قَالَ: كُنْتُ أَمْشِي مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «لَغَيْرُ الدَّجَّالِ أَخْوَفُنِي عَلَى أُمَّتِي» قَالَهَا ثَلَاثًا، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ! مَا هَذَا الَّذِي غَيْرُ الدَّجَّالِ أَخْوَفُكَ عَلَى أُمَّتِكَ؟ قَالَ: «أَئِمَّةٌ مُضِلُّونَ».) আবু জ্বর গিফারি রদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে বর্নিত তিনি বলেন, আমি একবার রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম এর সাথে হাঁটছিলাম তিনি বললেনঃ “দাজ্জালের চেয়েও আমি আমার উম্মতের জন্য বেশি ভয় করি অন্য কিছু” একথা তিনি তিনবার বললেন আমি বললামঃ “ইয়া রছুলাল্লাহ! সেই কোন বিষয়টি দাজ্জালের চেয়েও আপনার বেশি ভয়?” তিনি বললেনঃ “পথভ্রষ্ট ইমামগণ” (মুসনাদে আহমাদ, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ১৪৫, হাদিস নং ২১৩৩৪, ২১৩৩৫, ২১৬২১, আল-মু‘জামুল কাবীর লিত-তাবরানী ৭৬৫৩, মাজমাউয যাওয়ায়িদ খন্ড ৫, পৃষ্টা ২৩৯)

অন্য আরেক বর্ননায় আছেঃ (إِنَّمَا أَخَافُ عَلَى أُمَّتِي الأَئِمَّةَ الْمُضِلِّينَ. قَالَ: وَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي عَلَى الْحَقِّ ظَاهِرِينَ، لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ يَخْذُلُهُمْ، حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللهِ) আমি আমার উম্মতের জন্য সবচেয়ে বেশি ভয় করি পথভ্রষ্ট ইমামদের তিনি আরো বলেন, আমার উম্মতের একটি দল সবসময়ই হক্বের উপর দৃঢ় থাকবেযারা তাদের পরিত্যাগ করবে, তাদের কারণে তাদের কোনো ক্ষতি হবে না, যতক্ষণ না মহান আল্লাহ তায়ালা উনার হুকুম (কেয়ামত) এসে পৌঁছে(তিরমিযি শরীফ ২২২৯)

কয়েকটি হাদিছের সম্মিলিত খোলাছাও পেশ করছি, বুঝুন কাদের পূজারী হচ্ছেন। হুযায়ফা ইবনু ইয়ামান রদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ মানুষ রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের কাছে এসে কল্যাণ সম্পর্কে প্রশ্ন করতেন, আর আমি অকল্যাণ সম্পর্কে প্রশ্ন করতাম এই ভয়ে, যেনো তা আমাকে গ্রাস না করে বসে, আমি আর্জি পেশ করলাম ইয়া রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম, নিঃসন্দেহে, আমাদের একটি খারাপ সময় ছিল (অর্থাৎ আইয়্যামে জাহেলিয়াতের দিনগুলি) এবং মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের জন্য একটি ভাল সময় (অর্থাৎ ইছলামী যুগ) নিয়ে এসেছেন যার মধ্য (বর্তমানে) আমরা অবস্থান করছিতবে কি এর পরেও আবার খারাপ সময় আসবে?” তিনি ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বললেনঃ “হ্যাঁ” আমি আর্জি পেশ করলাম এই খারাপ সময়ের পর আবার কি কল্যাণের সময় আসবে? তিনি বললেন হ্যাঁ তবে তা হবে ভালো-মন্দের মিশ্রণ, আমি আর্জি পেশ করলাম, “এর মানে কী? তিনি বললেন আমার পরে এমন সব ইমাম ও লোক আসবে যারা আমার আনিত হেদায়াতের পথ অনুসরণ করবে না এবং আমার ছুন্নাহ ও মানবে না। তবুও তুমি তাদের কিছু কাজ গ্রহণ করবে এবং কিছু কাজ প্রত্যাক্ষ্যান করবে। আমি আবার আরজ করলামঃ “এরপর কি আবার খারাপ সময় আসবে?” তিনি ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বললেনঃ আমার পরে এমন সব আয়িম্ম্যা তথা ইমামদের উদ্ভব হবে, যারা আমার নির্দেশিত হেদায়েতের পথে পরিচালিত হবে না এবং আমার ছুন্নত ও তারা অনুসরণ করবে না। (বরং) তাদের মধ্যে এমন সব লোকের উদ্ভব হবে, যাদের ক্বলব হবে মানব দেহে শয়তানের ক্বলব তারা জাহান্নামের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে মানুষকে আহ্বান করবে, যে তাদের আহবানে সাড়া দেবে, তারা তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে।” আমি আরজ করলামঃ “ইয়া রছুলাল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম! তাদের পরিচয় আমাদের জন্য বর্ণনা করুন” তিনি ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বললেনঃ “তারা আমাদেরই বংশজাত হবে এবং আমাদের মতোই আরবি ভাষায় কথা বলবে” আরেকবার আমি আরজ করলামঃ “ইয়া রছুলাল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম! যদি আমি এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হই, তখন আমি কী করব?” তিনি ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বললেনঃ “তুমি মুছলিমদের জামা’য়াতের সাথে থাকবে এবং তাদের ইমামের আনুগত্য করবে; আমীরের কথা শুনবে ও মানবে যদিও তোমার পিঠে বেত্রাঘাত করা হয় এবং তোমার সম্পদও কেড়ে নেওয়া হয়, তবুও আমীরের কথা শুনবে ও মানবে” আমি আরজ করলামঃ “যদি মুছলিমদের কোনো জামা’য়াত ও ইমাম না থাকে, তখন কী হবে?” তিনি ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বললেনঃ “তাহলে তুমি সকল ফেরকা থেকে দূরে থাকবে, এমনকি যদি তোমাকে একটি গাছের শিকড় কামড়ে ধরে সেই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করতে হয়, তবুও সেই অবস্থায় থাকবে (বুখারী শরীফ ৭০৮৪, মুছলিম শরীফ ১৮৪৭ সহ অনেক কিতাবে বর্নিত হয়েছে।)

খোদ ছালাফি ইমাম ইবনে তাইমিয়া-ই বলেছে যে, “দুনিয়াকে সবচেয়ে বেশি ধ্বংস করেছে আধা বক্তা, আধা ফকীহ, আধা ডাক্তার এবং আধা ভাষাবিদএদের একজন (আধা বক্তা) দ্বীনকে ধ্বংস করে, অপরজন (আধা ফকীহ) দেশ ও জাতিকে ধ্বংস করেআধা ডাক্তার মানুষের শরীরকে নিঃশেষ করেআর আধা ভাষাবিদ ভাষাকে বিনষ্ট করে” (মাজমাউল ফাতাওয়া খণ্ড-৫, পৃষ্ঠা-১১৮)

সুতরাং আফসোস মুছলিম নামধারী উলামায়ে ‘ছূ’ দের জন্য, তারা ব্যবসার উদ্দেশ্যে ঈলম হাছিল করবেতারা তাদের ঈলম দ্বারা তাদের সমসাময়িক সরকার, রাজা-বাদশাহ, ক্ষমতাসীনদের সাথে ব্যবসা করবেতাদের ব্যবসা হবে নিছক দুনিয়ায় লাভবান হওয়ার জন্যে ইমামতি করবে টাকার জন্যে, পেট চালানোর জন্যে, ফলশ্রুতিতে মিম্বর আর ওয়াজ মাহফিলে, অনলাইনে এরা হক্ব কথা বলতেই পারবেনা, যেরূপ ওহাবীরা আজ সৌদির রাজতন্ত্রের গোলাম হয়ে আছে, সৌদি পূজায় লিপ্ত রয়েছে, সৌদির হাজারো দ্বীন বিরোধী কাজের বিপরীতেও এদের মুখ খোলেনা, উল্টো তাদের নাপাক নাচিজ ওহাবী ছালাফি আকিদাহ প্রচারে লিপ্ত রয়েছে, আহলুছ ছুন্নার আক্বিদাকে পরিত্যাগ করে আর একারণেই এরা দুনিয়ার বিনিময়ে যাহান্নাম খরিদ করেছে এদের ব্যপারে মহান আল্লাহ তা’য়ালা তিনি স্পষ্ট বলে দিয়েছেন আল ক্বুরআনের বহু যায়গায়, যেমনঃ (لَوۡ لَا یَنۡهٰهُمُ الرَّبّٰنِیُّوۡنَ وَ الۡاَحۡبَارُ عَنۡ قَوۡلِهِمُ الۡاِثۡمَ وَ اَکۡلِهِمُ السُّحۡتَ ؕ لَبِئۡسَ مَا کَانُوۡا یَصۡنَعُوۡنَ) আল্লাহওয়ালা এবং য়া’লিম (দাবীদার)গণ তাদেরকে পাপের বাক্য হতে এবং হারাম মাল ভক্ষণ করা হতে কেন নিষেধ করছেনা? তাদের এ অভ্যাস (মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নিকট খুবই) নিন্দনীয়। (ছুরাহ আল-মায়েদা ৫/৬৩) মালেক ইবন দীনার রহমতুল্লাহী য়ালাইহি বলেন, মহান আল্লাহ তায়ালা এক জায়গায় ফেরেশতা য়ালাইহিমুছ ছালামদেরকে নির্দেশ দিলেন যে, অমুক বস্তি ধ্বংস করে দাওফেরেশতা য়ালাইহিমুছ ছালামগন বললেন, এ বস্তিতে আপনার অমুক আবিদ অলীও রয়েছেননির্দেশ এল, তাকেও আযাবের স্বাদ আস্বাদন করাও, আমার অবাধ্যতা ও পাপাচার দেখেও তার চেহারা কখনও ক্রোধে বিবর্ণ হয়নি। (কুরতুবী, বাহরে মুহীত)

নফসের পূজারী উলামায়ে ছু অনেক সময় হক্ব কথা বলেনা, এর পেছনে দুনিয়া কাজ করেঅনেকে আবার সরাসরি সাধারণ আম মানুষের মতো এইসব কাজেও জড়িত, আর অনেকে পজিশন নষ্ট হবে এই ভয়ে, এটাও বলতে ছাড়েন নাই মহান আল্লাহ তা’য়ালা, সাথে এদের শাস্তির কথাও স্বরন করীয়ে দিয়েছেন এইভাবেঃ (یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِنَّ کَثِیۡرًا مِّنَ الۡاَحۡبَارِ وَ الرُّهۡبَانِ لَیَاۡکُلُوۡنَ اَمۡوَالَ النَّاسِ بِالۡبَاطِلِ وَ یَصُدُّوۡنَ عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰهِ ؕ وَ الَّذِیۡنَ یَکۡنِزُوۡنَ الذَّهَبَ وَ الۡفِضَّۃَ وَ لَا یُنۡفِقُوۡنَهَا فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰهِ ۙ فَبَشِّرۡهُمۡ بِعَذَابٍ اَلِیۡمٍ) হে মু’মিনগণ! অধিকাংশ আহবার (য়া’লীম) এবং রুহবান (পির-দরবেশ)-দের মধ্যে অনেকেই তো আম জনতার ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে খায় এবং মানুষকে (তারা) মহান আল্লাহ তা’য়ালার (হাক্বিকি) পথ থেকে (দূরে) সরিয়ে রাখে, আর যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য পুঞ্জীভূত করে এবং তা মহান আল্লাহ তা’য়ালার পথে ব্যয় করে না, আপনি তাদেরকে (কঠিন) যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন। (আত্ব তাওবা ৯/৩৪) এর পরেও তারা কিন্তু থেমে নেই, তারা মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার কালামকে ব্যবহার করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াজ মাহফিলে, অথচ মহান আল্লাহ তা’য়ালা স্পষ্ট কিন্তু বলেই দিয়েছেন যেঃ (وَ لَا تَشۡتَرُوۡا بِاٰیٰتِیۡ ثَمَنًا قَلِیۡلًا ۫ وَّ اِیَّایَ فَاتَّقُوۡنِ) আমার আয়াতের বিনিময়ে (মানুষের থেকে) সামান্য মূল্যও গ্রহণ করিও নাআর তোমরা শুধু আমাকেই ভয় কর। (আল বাক্বারা ২/৪১) এর পরেও কি ধর্ম ব্যবসা কমেছে? টাকার বিনিময়ে আজকাল যেখানে সেখানে যেমন খুশী তেমন ফতওয়া মিলেকিতাবের বিকৃতি, আয়াতের মনগড়া ব্যখ্যা তারা করেই যাচ্ছে, আর তাই মহান আল্লাহ তা’য়ালাও অগ্রিম বলে দিয়েছেনঃ (فَوَیۡلٌ لِّلَّذِیۡنَ یَکۡتُبُوۡنَ الۡکِتٰبَ بِاَیۡدِیۡهِمۡ ٭ ثُمَّ یَقُوۡلُوۡنَ هٰذَا مِنۡ عِنۡدِ اللّٰهِ لِیَشۡتَرُوۡا بِهٖ ثَمَنًا قَلِیۡلًا ؕ فَوَیۡلٌ لَّهُمۡ مِّمَّا کَتَبَتۡ اَیۡدِیۡهِمۡ وَ وَیۡلٌ لَّهُمۡ مِّمَّا یَکۡسِبُوۡنَ) সুতরাং দুর্ভোগ তাদের জন্য, যারা নিজ হাতে কিতাব রচনা করে এবং সামান্য কিছু মূল্য পাওয়ার জন্য বলে, ‘ইহা তো মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নিকট থেকে প্রাপ্তঅতএব তাদের হাত যা রচনা করেছে তার জন্যে তো তাদের শাস্তি (অবধারিত) এবং তারা যা উপার্জন করে থাকে, তার জন্যও তাদের ধ্বংস বিদ্যমান রয়েছে। (আল বাকারা ২/৭৯) এর কারন ও মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলতেছেনঃ (إِنَّ ٱلَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ مِنَ ٱلْكِتَٰبِ وَيَشْتَرُونَ بِهِۦ ثَمَنًۭا قَلِيلًۭا ۙ أُو۟لَـٰٓئِكَ مَا يَأْكُلُونَ فِى بُطُونِهِمْ إِلَّا ٱلنَّارًۭا ۖ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ ٱللَّهُ يَوْمَ ٱلْقِيَـٰمَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ ۚ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌۭ ١٧٥ أُو۟لَـٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ ٱشْتَرَوُا۟ ٱلضَّلَـٰلَةَ بِٱلْهُدَىٰ وَٱلْعَذَابَ بِٱلْمَغْفِرَةِ ۚ فَمَآ أَصْبَرَهُمْ عَلَى ٱلنَّارِ ١٧٦ ذَٰلِكَ بِأَنَّ ٱللَّهَ نَزَّلَ ٱلْكِتَٰبَ بِٱلْحَقِّ ۗ وَإِنَّ ٱلَّذِينَ ٱخْتَلَفُوا۟ فِى ٱلْكِتَٰبِ لَفِى شِقَاقٍۢ بَعِيدٍۢ) মহান আল্লাহ তায়ালা যা আল ক্বুরআনে নাযিল করেছেন তা যারা গোপন করে এবং এর বিনিময়ে সামান্য মূল্য গ্রহণ করে, তারা শুধু নার তাদের পেটে পুরেআর মহান আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিনে তাদের সাথে কথা বলবেন না, তাদের (নফকে) পরিশুদ্ধ করবেন নাআর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাবএই (উলামায়ে ছুরা) এমন লোক, যারা হেদায়তের বিনিময়ে গোমরাহী এবং ক্ষমার বিনিময়ে শাস্তি ক্রয় করেছে, আগুন সহ্য করতে তারা কতই না ধৈর্যশীল! (তাদের প্রতি যে শাস্তির হুকুম দেয়া হয়েছে) এটা এজন্য যে, মহান আল্লাহ তায়ালাই ক্বলামুল্লাহ শরীফকে হক্ব বিষয় সহ নাযিল করেছেন, তাই যারাই কিতাব সম্বন্ধে মতভেদ করেছে তারাই চরম ইখতিলাফে পড়ে আছে। (আল বাক্বরা ২/১৭৪-১৭৬)

এতো গেলো মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার হুকুম, জমিনে যে ১ লাখ ২৪ হাজার পয়গম্বর, নবী, রছুল, মুরছিল এসেছিলেন উনারা কি কারো থেকে কোন বিনিময় গ্রহণ করেছিলেন না উনাদের কোন ছ্বহাবী? অথচ ধর্ম ব্যবসায়ীরা নিজেদের ওয়ারাছাতুল আম্বিয়া ওয়াল মুরছালিন দাবি করেও ঠিকিই একেক মাহফিলে, বিশাল বিশাল মসজিদের খতীব সেজে বসে আছে মাস শেষে বিশাল অঙ্কের টাকার জন্যে, অথচ এরূপ কোন য়া’মল কোন মুরছালিনের তো ছিলোনাখোদ আল ক্বুরআনের মধ্যেই এর প্রমান বিদ্যমান

হযরত নূহ য়ালাইহিছ ছালামের কথা মহান আল্লাহ তা’য়ালা আল ক্বুরআনের নকল করছেন এইভাবেঃ (وَ یٰقَوۡمِ لَاۤ اَسۡئَلُکُمۡ عَلَیۡهِ مَالًا ؕ اِنۡ اَجۡرِیَ اِلَّا عَلَی اللّٰهِ) আর হে আমার কওম, (আমার এই দ্বীনের দাওয়াত) এর বিনিময়ে আমি তোমাদের কাছে কোন ধন-সম্পদ চাই নাআমার প্রতিদান শুধু মহান আল্লাহ তায়ালা উনার কাছে। (হূদ য়ালাইহিছ ছালাম ১১/২৯)

হযরত হুদ য়ালাইহিছ ছালামের কথা মহান আল্লাহ তা’য়ালা আল ক্বুরআনের নকল করছেন এইভাবেঃ (یٰقَوۡمِ لَاۤ اَسۡـَٔلُکُمۡ عَلَیۡهِ اَجۡرًا ؕ اِنۡ اَجۡرِیَ اِلَّا عَلَی الَّذِیۡ فَطَرَنِیۡ ؕ اَفَلَا تَعۡقِلُوۡنَ) হে আমার সম্প্রদায়! আমি (দ্বীনের এই দাওয়াত)-এর পরিবর্তে তোমাদের নিকট কোন মজুরি চাই নাআমার পারিশ্রমিক তো উনারই নিকট যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। (হূদ য়ালাইহিছ ছালাম ১১/৫১)

হযরত ছালেহ য়ালাইহিছ ছালামের কথা মহান আল্লাহ তা’য়ালা আল ক্বুরআনের নকল করছেন এইভাবেঃ (وَ مَاۤ اَسۡـَٔلُکُمۡ عَلَیۡهِ مِنۡ اَجۡرٍ ۚ اِنۡ اَجۡرِیَ اِلَّا عَلٰی رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ) আমি তোমাদের নিকট এ জন্য কোন পারিশ্রমিক চাইনা (যে, আমি দ্বীনের দাওয়াত দিচ্ছি), আমার পারিশ্রমিক তো জগতসমূহের যিনি প্রতিপালক উনার নিকট রয়েছে। (আশ-শুআ'রা ২৬/১৪৫)

হযরত লূত য়ালাইহিছ ছালামের কথা মহান আল্লাহ তা’য়ালা আল ক্বুরআনের নকল করছেন এইভাবেঃ (وَ مَاۤ اَسۡـَٔلُکُمۡ عَلَیۡهِ مِنۡ اَجۡرٍ ۚ اِنۡ اَجۡرِیَ اِلَّا عَلٰی رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ) আমি তোমাদের নিকট এ জন্য কোন মজুরী চাইনা (যে, আমি দ্বীনের দাওয়াত দিচ্ছি), আমার প্রতিদান তো জগতসমূহের যিনি প্রতিপালক উনার নিকট রয়েছে। (আশ-শুআ'রা ২৬/১৬৪)

হযরত শোয়েব য়ালাইহিছ ছালামের কথা মহান আল্লাহ তা’য়ালা আল ক্বুরআনের নকল করছেন এইভাবেঃ (وَ مَاۤ اَسۡـَٔلُکُمۡ عَلَیۡهِ مِنۡ اَجۡرٍ ۚ اِنۡ اَجۡرِیَ اِلَّا عَلٰی رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ) আমি তোমাদের নিকট এ জন্য কোন মজুরী চাইনা (যে, আমি দ্বীনের দাওয়াত দিচ্ছি), আমার প্রতিদান তো জগতসমূহের যিনি প্রতিপালক উনার নিকট রয়েছে। (আশ-শুআ'রা ২৬/১৮০)

অনেকে বলতে পারে যে আমাদের যিনি রছুল উনার ব্যপারে কি কিছু নাই আল ক্বুরআনে? হ্যা উনার ব্যপারেও আছেমহান আল্লাহ তা’য়ালা সরাসরি নির্দেশ দিচ্ছেন উনাকে আমাদের বলার জন্যেযেমনঃ (وَ مَا تَسۡـَٔلُهُمۡ عَلَیۡهِ مِنۡ اَجۡرٍ ؕ اِنۡ هُوَ اِلَّا ذِکۡرٌ لِّلۡعٰلَمِیۡنَ) আর আপনি তো তাদের নিকট কোন পারিশ্রমিক দাবি করছেন না (এই দ্বীনের দাওয়াত এর বদলে), (বরং) এ (ক্বুরআন) তো সৃষ্টিকুলের জন্য উপদেশ বৈ অন্য কিছু নয়। (ইউছুফ য়ালাইহিছ ছালাম ১২/১০৪) এছাড়াও মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ (قُلۡ مَاۤ اَسۡـَٔلُکُمۡ عَلَیۡهِ مِنۡ اَجۡرٍ وَّ مَاۤ اَنَا مِنَ الۡمُتَکَلِّفِیۡنَ) (পেয়ারে হাবীব ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম) আপনি তাদের বলে দিন, আমি এই (দ্বীনের তাবলীগের) জন্য তোমাদের নিকট কোন পারিশ্রমিক চাই নাআর আমি কোন ধোঁকাবাজ (মুয়াল্লীম) নই। (আছ্ব ছ্বয়াদ ৩৮/৮৬) অর্থাত দ্বীনের তাবলীগের বিপরীতে তারা যে পারিশ্রমিক দাবি করে তা মিথ্যা, এইসব কাজ আমার সুন্নত নহেএকারণেই মহান আল্লাহ তা’য়ালা বার বার স্বরন করাই দিছেন যেঃ (اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ هَدَی اللّٰهُ فَبِهُدٰىهُمُ اقۡتَدِهۡ ؕ قُلۡ لَّاۤ اَسۡـَٔلُکُمۡ عَلَیۡهِ اَجۡرًا ؕ اِنۡ هُوَ اِلَّا ذِکۡرٰی لِلۡعٰلَمِیۡنَ) (পেয়ারে হাবীব ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম) আপনি তাদের বলে দিন, (দ্বীনের তবলীগ ও দাওয়াতের জন্যে) আমি তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই নাএটা (তো বরং) সারা কায়েনাতবাসির জন্য উপদেশ বাণী। (আল-আন’য়াম ৬/৯০) উনাকে আরো নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার পক্ষ থেকে এইভাবে যেঃ (ذٰلِکَ الَّذِیۡ یُبَشِّرُ اللّٰهُ عِبَادَهُ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ ؕ قُلۡ لَّاۤ اَسۡـَٔلُکُمۡ عَلَیۡهِ اَجۡرًا اِلَّا الۡمَوَدَّۃَ فِی الۡقُرۡبٰی ؕ وَ مَنۡ یَّقۡتَرِفۡ حَسَنَۃً نَّزِدۡ لَهٗ فِیۡهَا حُسۡنًا ؕ اِنَّ اللّٰهَ غَفُوۡرٌ شَکُوۡرٌ) (পেয়ারে হাবীব ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম) আপনি (আপনার উম্মতদের) বলে দিন যে, নবুওয়াতের দায়িত্ব পালনের জন্যে আমি তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চাই নাতবে আমার নিকটজন তথা আহলে বাইত শরীফ য়ালাইহিমুছ ছালাম উনাদের প্রতি তোমরা সদাচারন করবে (আশ-শূরা ৪২/২৩)

উল্লিখিত অসংখ্য আয়াতে বজ্রকঠিন হুশিয়ারী থাকা সত্ত্বেও ইমামতিতে টাকা, মিলাদে টাকা, জানাযায় টাকা, ওয়াজ-নছিহতে টাকা, ফতোয়ায় টাকা, বিয়ে পড়াতে টাকা, তালাকে টাকা, মাজারে টাকা, পীরের ছ্বহবত নিতেও টাকা! টাকা ছাড়া শরিয়ত/মা’রিফাতের চাকা একেবারেই স্তব্ধ হয়ে যায়!

প্রায় সকল ফতোয়াবাজ, ওয়াজীনদের বক্তব্য, বিষয়বস্তু যাই হোক, যদি মুল্লা ভাইরাল হয়ে যায় কোন সুর বা তাল দিয়ে, তাহলে তার মজুরি/হাদিয়াও বেড়ে যায়এছাড়াও কথিত মিথ্যা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন দাবীদার অনেক পীর ও মু’য়াল্লিমও আজকাল ভাড়া খাটেতারা জেনে শুনেই উক্ত আয়াত শরীফগুলি গোপন রেখে মজুরী গ্রহণ করে থাকে! হারামকে অমৃত/ছ্বয়াব মনে করে ভক্ষণ করে থাকেযদিও তারা জানে যে, তারা নার গ্রহণ করতেছে এবং কেয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি তাদের সাথে কথাও বলবেন না, পাক-পবিত্রও করবেন না

আবু হুরায়রা রদ্বিআল্লাহু আনহু বলেন, তিনি রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়াছাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ “কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম এমন এক ব্যক্তির ব্যপারে ফয়সালা হবে যে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার রাস্থায় শহীদ হয়েছিলতারপর যে ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হবে, সে দ্বীনি ঈলম অর্জন করেছে, তা লোকদের শিক্ষা দিয়েছে আর ক্বুরআন পাঠ করেছেতাকেও যখন উপস্থিত করা হবে এবং তাকে দেওয়া সুযোগ সুবিধা গুলোও তার সামনে তুলে ধরা হবেসে তা দেখে চিনতে পারবেতাকে জিজ্ঞাসা করা হবে তুমি তোমার নিয়ামতের কি সদ্ব্যাবহার করেছ? সে বলবে আমি ঈলম অর্জন করেছি, লোকদের তা শিক্ষা দিয়েছি এবং আপনার সন্তুষ্টির জন্য ক্বুরআন পাঠ করেছিমহান আল্লাহ তায়ালা তখন বলবেন, তুমি মিথ্যা কথা বলছ, বরং তুমি এই উদ্দেশ্যেই ঈলম অর্জন করেছিলে যে, লোকেরা তোমাকে আলেম বা জ্ঞানী বলবে, এবং ক্বুরআন এই জন্যই পাঠ করেছিলে যে, মানুষ তোমাকে ‘ক্বারী’ বলে ডাকবে, আর তা ডাকাও হয়েছেঅতঃপর তার সম্বন্ধে নির্দেশ দেওয়া হবে এবং তাকে উপুড় করে টেনে নিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। (মুছলিম শরীফ ৪৭৭১)

অন্যদিকে একশ্রেণীর ধর্ম ব্যবসায়ী দ্বীনের ঠিকাদার আছে যারা কথিত আল্লামা, মুফতিদের ভাড়া খাটিয়ে ক্বুরআন হাদিছের কিতাবের, আর আল্লাহ-রছুলের নামে মনগড়া বই পুস্তক রচনা করে একচেটিয়া ধর্ম ব্যবসায় লিপ্ত রয়েছেনভেল-উপন্যাসের মতই দর দাম কষাকষি করেই তা কিনতে বাধ্য হতে হয়‘মূল্যে’র স্থলে লেখা থাকে ‘হাদিয়া’ অর্থাত বাংলায় ‘মূল্য’ লিখা হারাম, আ’য়রবী ‘হাদিয়া’ লিখা হালাল! আর আরেকটি বিষয় দেখা যায়, মুছলিম অধ্যুষিত অনেক এলিট এলাকার অধিকাংশ মসজিদ, মাদ্রাসা গড়ে ওঠে ব্যবসাভিত্তিক এবং আপত্তিকর, সংঘাতপূর্ণ স্থানে; আর মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার মসজিদের কর্তিত্ব নিয়ে মুছলিম দাবীদারদের মধ্যে চলে মামলা-মোকদ্দমা!

নামাজ পড়াতে/পড়তে ইমাম যা জানে, মুসল্লীগণও তা জানেন; ইমামের যতটুকু সময় ব্যয় হয়, মুসল্লীদেরও ততটুকু সময় ব্যয় হয়মুসল্লীদের উপর নামাজ পড়া যেমন ফরজ, ইমামেরও তাই (শরিয়ত অনুসারে)কিন্তু কথিত ইমামেরা আজ তাদের নামাজ বিক্রয় করে নফছের পূজা করে যেখানে মুছল্লীদের নামাজের চাওয়া-পাওয়া থাকে মহান আল্লাহ তা’য়ালার কাছে, পক্ষান্তরে ইমামের নামাজের হারাম চাওয়া পাওয়া থাকে মুছল্লীদের হারাম/হালালে ভরপুর পকেট পর্যন্তবেতন বন্ধ, ইমামতিও বন্ধ! পয়সার বিনিময়ে নামাজ পড়ায়, কিন্তু নিজেরা নামাজ পড়েনা! অর্থাত মহান আল্লাহ তা’য়ালার দরবারে তারা বে-নামাজীই সাব্যস্থ হয়!

রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম ও উনার ছ্বহাবায়ে কেরাম রদ্বিআল্লাহু আনহুমগণ ধর্ম প্রচারে নিজেদের শেষ সম্বলটুকু ব্যয় করে নিঃশেষ হয়েছেনমুছলিম মিল্লাতের প্রথম ইমাম, খলিফা উনার কথাই যদি ধরি, যার পেছনে নামাজ পড়তেন সকল ছ্বহাবায়ে কিরাম রদ্বিআল্লাহু আনহুম সেই আবু বকর ছিদ্দিক রদ্বিআল্লাহু আনহু উনার নেট সম্পদ ছিলো ৪০ হাজার রৌপ্য মুদ্রা সম্মানিত পবিত্র দ্বীন ইছলাম কবুলের পূর্বে, অথচ ইছলাম কবুল করার সাথে সাথেই তা নেমে আসে ৫০০০ রৌপ্য মুদ্রায় অতি অল্প সময়েএর প্রধান কারণ ছিলো তিনি এই অর্থ ব্যয় করেছিলেন, দাসমুক্তি করার জন্য, নও মুছলিম ও যারা অমুছলিমদের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছিল তাদের জন্যে, তিনি গোলাম খরিদ করতেন, এবং একই সময়ে তিনি তাদের মুক্তও করে দিতেনএতেই উনার সিংহভাগ অর্থ চলে গিয়েছিলোশুধু কি তাই? যায়েদ ইবনে আসলাম রহমতুল্লাহী য়ালাইহি থেকে উনার পিতার সূত্রে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি উমর ইবনুল খত্তাব রদ্বিআল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছিঃ একবার রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়াছাল্লাম আমাদেরকে দান করার নির্দেশ দেনঘটনাক্রমে সেদিন আমার কাছে মাল ছিলআমি (মনে মনে) বলিঃ আজকেই সুযোগ, আজ আমি আবু বকর সিদ্দিক রদ্বিআল্লাহু আনহুর চাইতে (দানে) বেশী অগ্রগামী হব, যদিও কোন দিন আমি দানে উনার চেয়ে অগ্রগামী হতে পারিনিতাই আমি আমার অর্ধেক সম্পদ নিয়ে আসি রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়াছাল্লাম উনার কদম মুবারকেরছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়াছাল্লাম জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি তোমার পরিবার-পরিজনদের জন্য কি রেখে এসেছ? উমর ইবনুল খত্তাব রদ্বিআল্লাহু আনহু বলেনঃ আমি বলি, এর সম-পরিমাণ সম্পদআর আবু বকর সিদ্দিক রদ্বিআল্লাহু আনহুও আনলেন উনার বিশাল সম্পদরছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়াছাল্লাম উনাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ হে আবু বকর সিদ্দিক রদ্বিআল্লাহু আনহু তুমি তোমার পরিবার-পরিজনদের জন্য কি রেখে এসেছ? তিনি বলেন, আমি তাদের জন্য মহান আল্লাহ তায়ালা এবং উনার রছুল ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়াছাল্লামকে রেখে এসেছিউমার ইবনুল খত্তাব রদ্বিআল্লাহু আনহু বলেনঃ তখন আমি বলিঃ আমি ভবিষ্যতে কোন দিন কোন ব্যাপারে অধিক ফযীলতের অধিকারী হওয়ার জন্য আপনার সাথে প্রতিযোগিতা করব না। (তিরমিযি শরীফ ৩৬৭৫) পক্ষান্তরে আজকের শরিয়ত/মায়’রিফাতের তা’য়লীম দেনে ওয়ালারা ধর্ম-কর্মের বিনিময়ে অর্থ-সম্পদের পাহাড় ও লাক্সারিয়াছ জীবন যাপন আর ভোগ-বিলাসে মত্ত্বপীর, শায়েখ, বাবা, ইমাম ওয়াএজীনদের প্রতিদান হয় নগদে আর মুছল্লীদের/ভক্তদের ছ্বওয়াব হয় মৃত্যুর পরের জন্যেঅন্ধ ব্রেইনওয়াস ভক্তদের ধারণা এমন হালে নিয়ে যাওয়া হয় যে তারা চিন্তা করতে বাধ্য হয় যে আমাদের এইসব মুল্লা, আল্লামা, শায়েখরা কি খাবেন! অথচ প্রশ্নটি মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নির্দেশের উপরে অনধিকার কুফুরি চর্চা! তারা কি খাবেন কি খাবেন না! তা আল ক্বুরআনের পরতে পরতে বর্ণিত আছেবর্তমানে তারা কি খাচ্ছে! এর পরিণতি কি! তাও আয়াতে পাকে স্পষ্ঠভাবে বর্ণিত হয়েছে; অর্থাত মদ, শুকরের গোসত, ঘুষ, চুরী-ডকাতীর চেয়েও হারাম ভক্ষণ করছে, নার খাচ্ছে নার, এবং তা জেনে শুনেই, আর এরাই শরিয়ত/মায়’রিফাতের কথিত আলেম/আল্লামা/বাবা/ শায়েখ/মুরুব্বী!

যদিও আপদে-বিপদে কোন উপায়ান্ত না থাকলে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ/হারাম ঘোষিত মদ, শুকরের গোশত খাওয়ার সুযোগ দিয়েছেন মহান আল্লাহ তা’য়ালা মাজুর লোকদের পবিত্র আল ক্বুরআনে, কিন্তু ধর্ম-কর্মের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণের সুযোগ কস্মিনকালেও দেননি; বরং নামাজ শেষে মাঠে-ঘাটে ছড়িয়ে পড়ে, ক্বলবি জিকির চালু করে হালাল রুজির সন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছেঃ (فَإِذَا قُضِيَتِ ٱلصَّلَوٰةُ فَٱنتَشِرُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ وَٱبْتَغُوا۟ مِن فَضْلِ ٱللَّهِ وَٱذْكُرُوا۟ ٱللَّهَ كَثِيرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ) অতঃপর যখন নামাজ শেষ হয়ে যাবে, তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো, মহান আল্লাহ তায়ালা উনার অনুগ্রহ থেকে (রিজিক/উপার্জন) অনুসন্ধান করো, আর অধিক পরিমানে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার (ক্বলবি) জিকীর করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো। (ছুরাহ আল-জুমুয়াহ শরীফ ৬২/১০)

আর আল ক্বুরআনে আমাদের স্পষ্ট করেই বলে দেওয়া হয়েছে যে ধর্ম ব্যবসায়ীদের অনুসরণ করা মানুষের জন্যে সম্পুর্ন নিষিদ্ধ/হারাম, যেমন মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ (اتَّبِعُوۡا مَنۡ لَّا یَسۡـَٔلُکُمۡ اَجۡرًا وَّ هُمۡ مُّهۡتَدُوۡنَ) (আর) অনুসরণ কর তাদের, যারা তোমাদের নিকট থেকে (দ্বীনের তাবলীগের বিষয়ে) কোন পারিশ্রমিক গ্রহণ করে না, আর এরাই সৎপথপ্রাপ্ত। (ছূরা ইয়াসিন ৩৬/২১) এর পরেও যদি কেউ না বোঝে না শোনে, তাকে বোঝানোর শোনানোর কাজ আসলে আমার নয়, স্বয়ং আল্লাহ পাক উনারমহান আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের সবাইকে হক্ব বোঝার তৌফিক দিন