Tuesday, July 14, 2026

দেওবন্দীদের আরেক ধোঁকাঃ তাহলে ইমাম আবূ হানীফা রদ্বিআল্লাহু য়ানহু উনার স্বপ্নের তাবীরকারীও কি খারাপ?

দেওবন্দীদের আরেক ধোঁকাঃ তাহলে ইমাম আবূ হানীফা রদ্বিআল্লাহু য়ানহু উনার স্বপ্নের তাবীরকারীও কি খারাপ?

দেওবন্দী পক্ষ আশরাফ আলী থানভীর আত্মপ্রশংসামূলক তাবীরকে রক্ষা করার জন্য হযরত ইমামে আযম আবূ হানীফা রদ্বিল্লাহু য়ানহু উনার একটি স্বপ্নের ঘটনা সামনে আনেতারা বলতে চায়ঃ

হযরত ইমাম আবু হানীফা রহঃ একদা স্বপ্নে দেখলেন যে, তিনি রাসূল সাঃ এর মাযারে পৌছলেনসেখানে পৌছে তিনি রাসুল সাৰ এর কবর মুবারক ভেঙ্গে ফেললেন। [আল্লাহ হিফাযত করুন]এ মারাত্মক ও পেরেশানী উদ্দীপক স্বপ্নটি তিনি তার উস্তাদকে জানালেনসে সময় ইমাম সাহেব রহঃ মক্তবে পড়ছিলেনতখন তার উস্তাদ বললেন-যদি সত্যিই তুমি এ স্বপ্ন দেখে থাক, তাহলে এর ব্যাখ্যা হল-তুমি রাসুল সাঃ এর হাদীসের অনুসরণ করবেআর শরীয়তে মুহাম্মদী সাঃ কে পরিপূর্ণ তথ্য-তালাশ করে গবেষণা করবেব্যাস! যেভাবে উস্তাদ বলেছিলেন সে ব্যাখ্যাটি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়িত হয়েছিল{তাবীরুর রুউআ-১০৮, আকবর বুক ডিপো}

উক্ত অনুবাদ দিয়ে বলে তাহলে থানভীর তাবীরকে খারাপ বলা হলে ইমামে আযমের তাবীরকারীকেও খারাপ বলতে হবে অথচ ইমামে আযম স্বপ্নে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার ক্ববর শরীফ খুঁড়েছিলেনআর এর ভালো তাবীর করা হয়েছিল, কোন কালে কেউ কোন আপত্তিই তোলেনিএটি সম্পূর্ণ ভুল তুলনাপ্রথমে ঘটনাটির সঠিক বর্ণনা জানা প্রয়োজন

উপরোক্ত প্রচারিত বর্ণনাটিতে কয়েকটি ভুল রয়েছে

প্রচারিত বাংলা বর্ণনায় বলা হয়ঃ

১) ঘটনাটি ইমামে আযম রদ্বিআল্লাহু য়ানহু উনার মক্তবে পড়ার সময় ঘটেছিল;
২) তিনি উনার মক্তবের উস্তাদকে স্বপ্নটি বলেছিলেন;
৩) তিনি রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার “কবর ভেঙে ফেলেছিলেন”;
৪) উনার উস্তাদ তাবীর করেছিলেন।

কিন্তু প্রাচীন সূত্রে সংরক্ষিত মূল বর্ণনায় এসব কথা এভাবে নেই আল-খতীব আল-বাগদাদী তারীখে বাগদাদ-নদসহ বর্ণনা করেনঃ (سَمِعْتُ أَبَا حَنِيفَةَ يَقُولُ: رَأَيْتُ رُؤْيَا فَأَفْزَعَتْنِي، رَأَيْتُ كَأَنِّي أَنْبِشُ قَبْرَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَتَيْتُ الْبَصْرَةَ، فَأَمَرْتُ رَجُلًا يَسْأَلُ مُحَمَّدَ بْنَ سِيرِينَ، فَسَأَلَهُ، فَقَالَ: هَذَا رَجُلٌ يَنْبِشُ أَخْبَارَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

অর্থাৎ: হযরত ইমামে আযম আবূ হানীফা রদ্বিয়াল্লাহু য়ানহু বলেছেন, “আমি এমন একটি স্বপ্ন দেখলাম যা আমাকে ভীত করে দিয়েছিলআমি দেখলাম, যেন আমি রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার কবর শরীফ মুবারক খুঁড়ছিআমি বসরায় গিয়ে একজন লোককে মুহাম্মাদ ইবনে ছীরীন রহমতুল্লাহি য়ালাইহি উনার কাছে স্বপ্নটির তাবীর জিজ্ঞেস করতে পাঠালামতিনি বললেন, ‘এ ব্যক্তি রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার সংবাদ ও বর্ণনাগুলো গভীরভাবে অনুসন্ধান করবে’”

একই মূল বক্তব্য ইমাম যাহাবী রহমতুল্লাহি য়ালাইহি ছিয়ারু আলামিন নুবালা-তেও উদ্ধৃত করেছেনঅতএব, নির্ভরযোগ্য বর্ণনায় তাবীরকারী কোনো অজ্ঞাত মক্তবের উস্তাদনন; তিনি প্রসিদ্ধ তাবিয়ি ও স্বপ্নতাবীরবিদ হযরত মুহাম্মাদ ইবনে ছীরীন রহমতুল্লাহি য়ালাইহিইমামে আযম সরাসরি তার ছাত্র ছিলেন বা ঘটনাটি মক্তবের বয়সে ঘটেছিল, মূল বর্ণনায় তা বলা হয়নিবরং তিনি একজনকে ইবনে ছীরীন রহমতুল্লাহি য়ালাইহি উনার কাছে পাঠিয়েছিলেন

কবর ভেঙে ফেললেন এ অনুবাদও ভুল

মূল আরবি শব্দ হলোঃ (أَنْبِشُ قَبْرَ النَّبِيِّ) এখানে (نَبْشُ الْقَبْرِ) অর্থ কবর খোঁড়া, উন্মোচন করা বা ভেতরে যা রয়েছে তা বের করার উদ্দেশ্যে মাটি সরানোএর সরাসরি অর্থ কবর ভেঙে ধ্বংস করে দেওয়ানয়আরবি অভিধানেও (نَبْشُ الْقَبْرِ)-এর অর্থ দেওয়া হয়েছেঃ (حَفَرَهُ لِاسْتِخْرَاجِ مَا فِيهِ) অর্থাৎ, “ভেতরে যা আছে তা বের করার উদ্দেশ্যে কবরটি খুঁড়ল

কবর ভেঙে ফেললেনবললে ইচ্ছাকৃত ধ্বংস ও অবমাননার অর্থ তৈরি হয় যা দেওবন্দী বাটপারেরা ইচ্ছেকৃত অনুবাদ করেছে যাতে তাদের বাবা আশরাফকে বাঁচানো যায় অথচ মূল রেওয়ায়েতে সেই শব্দ ব্যবহার করা হয়নি

হযরত ইবনে ছীরীন রহমতুল্লাহি য়ালাইহি উনার তাবীর কেন সঠিক ছিল?

স্বপ্নের বাক্য এবং তাবীরের বাক্য পাশাপাশি রাখলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবেঃ (أَنْبِشُ قَبْرَ النَّبِيِّ) “আমি নবীজী উনার কবর মুবারক খুঁড়ছি।”

তাবীরঃ (يَنْبِشُ أَخْبَارَ رَسُولِ اللهِ) “সে রছুলে পাক উনার বর্ণনা ও সংবাদ গভীরভাবে অনুসন্ধান করবে।”

দুই বাক্যেই একই ক্রিয়ামূল ব্যবহৃত হয়েছেঃ نَبَشَ - يَنْبِشُ এর অর্থ হলোঃ মাটির নিচে ঢাকা কোনো বস্তু খুঁজে বের করার মতো গভীরভাবে অনুসন্ধান করা।

স্বপ্নে কবর মুবারক খোঁড়ার দৃশ্যটি ছিল একটি প্রতীক। ইবনে ছীরীন রহমতুল্লাহি য়ালাইহি সেই প্রতীকের সরাসরি ভাষাগত সম্পর্ক ধরে তাবীর করেছেনঃ কবরের ভেতর অনুসন্ধান করা রছুলে পাক উনার রেখে যাওয়া সংবাদ, আছার ও হাদীছ শরীফ গভীরভাবে অনুসন্ধান করা। এখানে তাবীরকারী কবর খোঁড়াকে বাস্তবে জায়েয বা প্রশংসনীয় বলেননি, না নিজের কোন শান, বা নিজে নবীজির মনোনীত কেউ প্রমান করে নিজেকে জাহির করতে চেয়েছেন। তিনি স্বপ্নের প্রতীকী অর্থ প্রকাশ করেছেন মশহুর তাবিরকারক হিসেবে।

থানভীর ঘটনার সঙ্গে মৌলিক পার্থক্য

প্রথম পার্থক্যঃ একটি প্রতীকী দৃশ্য, অন্যটি স্পষ্ট আক্বীদাগত শব্দ

ইমামে আযম রদ্বিল্লাহু য়ানহু উনার স্বপ্নে কোনো মানুষকে নবী”, “রছুলুল্লাহবা রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার বিকল্প বলা হয়নিতিনি একটি প্রতীকী কাজের দৃশ্য দেখেছিলেন কবর খোঁড়া

কিন্তু থানভীর ঘটনায় স্পষ্টভাবে কালিমার মধ্যেঃ (مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللهِ)-এর পরিবর্তে আশরাফ আলীর নাম উচ্চারিত হয়েছে এবং দুরূদের মধ্যে তাকেঃ (سَيِّدِنَا وَنَبِيِّنَا وَمَوْلَانَا) অর্থাৎ, “আমাদের নেতা, আমাদের নবী ও আমাদের মাওলাবলা হয়েছে

অতএব একটি প্রতীকী দৃশ্য এবং একটি স্পষ্ট নবুওয়াতসূচক বাক্য এক বিষয় নয়

দ্বিতীয় পার্থক্যঃ ইবনে ছীরীন নিজের সার্টিফিকেট তৈরি করেননি

হযরত ইবনে ছীরীন রহমাতুল্লাহি য়ালাইহি স্বপ্নের মধ্যে নিজে উপস্থিত ছিলেন নাউনার নাম রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার নামের স্থানে বসানো হয়নিতিনি তাবীর করে নিজের কোনো মর্যাদা, বুযুর্গি বা ছুন্নাত অনুসরণের সার্টিফিকেট গ্রহণ করেননি তিনি অন্য একজন ব্যক্তির স্বপ্নের তাবীর করেছেন এবং তার ফলও অন্য ব্যক্তির দিকে ফিরেছে

কিন্তু থানভীর ঘটনায়ঃ

১) থানভীর নিজের নাম রছুলে পাক উনার নামের স্থানে উচ্চারিত হয়েছে;
২) থানভীর নিজের নামের সঙ্গে “আমাদের নবী” শব্দ যুক্ত হয়েছে;
৩) থানভী নিজেই তার তাবীর করেছে;
৪) এবং তাবীরের ফলও নিজের প্রশংসার দিকে ফিরিয়েছে।

অর্থাৎ, থানভী নিজেই ঘটনার সুবিধাভোগী, নিজেই তাবীরকারী এবং নিজেই নিজের জন্য সার্টিফিকেটদাতা

তৃতীয় পার্থক্যঃ ইবনে ছীরীনের তাবীরে সুস্পষ্ট ভাষাগত সম্পর্ক রয়েছে

কবর খোঁড়া এবং হাদীছ-আছার খুঁজে বের করা উভয়ের মধ্যে অনুসন্ধান ও গুপ্ত বিষয় উদ্ঘাটনের একটি পরিষ্কার ভাষাগত সম্পর্ক রয়েছে

কিন্তু “আশরাফ আলী রছুলুল্লাহ” অথবা “আমাদের নবী আশরাফ আলী” থেকে কীভাবে - “আশরাফ আলী ছুন্নতের অনুসারী” এই তাবীর বের হলো?

এর মধ্যে কোনো সুস্পষ্ট ভাষাগত, ক্বুরআনী, হাদীছভিত্তিক বা স্বীকৃত তাবীরশাস্ত্রীয় সম্পর্ক দেখানো হয়নি। থানভী শুধু নিজের পক্ষে একটি ইতিবাচক অর্থ ঘোষণা করেছে।

চতুর্থ পার্থক্যঃ ইমামে আযম নিজেই আতঙ্কিত হয়েছিলেন

মূল বর্ণনায় হযরত ইমামে আযম রদ্বিল্লাহু য়ানহু বলেছেনঃ (رَأَيْتُ رُؤْيَا فَأَفْزَعَتْنِي) আমি এমন একটি স্বপ্ন দেখেছিলাম, যা আমাকে ভীত করে দিয়েছিল তিনি স্বপ্নটি দেখে আনন্দিত হননি, নিজের শ্রেষ্ঠত্বের দলিল বানাননি এবং বলেননিঃ এতে আমার জন্য সান্ত্বনা আছে যে আমি বড় ছুন্নাতের অনুসারী বরং তিনি ভয় পেয়েছেন এবং নিজের পরিচয় গোপন রেখে একজন বিজ্ঞ তাবীরকারীর কাছে এর ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছেন অন্যদিকে থানভী তার নিজের নামকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ভয়াবহ ঘটনাটির মধ্যে নিজের জন্য তাসল্লীও প্রশংসা খুঁজে পেয়েছে

পঞ্চম পার্থক্যঃ ইবনে ছীরীনের ব্যাপারে পূর্ণ কথোপকথন সংরক্ষিত হওয়ার দাবি নেই

হযরত ইবনে ছীরীন রহমতুল্লাহি য়ালাইহি উনার ঘটনা একটি ঐতিহাসিক রেওয়ায়েত হিসেবে সংক্ষেপে উদ্ধৃত হয়েছেসেখানে মূলত স্বপ্ন ও তাবীরটি সংরক্ষিত হয়েছেতিনি এর আগে বা পরে ইস্তিআযাহ, নছিহত কিংবা অন্য কোনো কথা বলেছেন কি না বর্ণনাটিতে তা আলোচনাই করেনি সুতরাং শুধু সংক্ষিপ্ত ঐতিহাসিক রেওয়ায়েতে কোনো কথা উল্লেখ না থাকায় বলা যাবে নাঃ ইবনে ছীরীন নিশ্চয়ই ইস্তিআযাহ করেননি বা সতর্ক করেননি কিন্তু থানভীর ক্ষেত্রে আমাদের সামনে তার নিজের প্রকাশিত লিখিত উত্তর রয়েছেপ্রশ্নের জবাবে সে কী বলেছিল, তা তার নিজের সম্পাদিত আল-ইমদাদ-এ ছাপা হয়েছেএ ঘটনায় সান্ত্বনা রয়েছে যে, যার দিকে তুমি প্রত্যাবর্তন করছ, তিনি মহান আল্লাহ তায়ালার সাহায্যে ছুন্নতের অনুসারী অতএব, একটি সংক্ষিপ্ত জীবনীমূলক রেওয়ায়েত এবং থানভীর নিজের প্রকাশিত উত্তরকে একই মানদণ্ডে বিচার করা যাবে না

সহজ উদাহরণে পার্থক্য

এক ব্যক্তি স্বপ্ন দেখল, সে একটি বন্ধ গ্রন্থাগারের দরজা ভেঙে ভেতরের বই বের করছে তাবীরকারী বললঃ তুমি অজানা ইলম অনুসন্ধান করে মানুষের সামনে প্রকাশ করবে এখানে দরজা ভাঙাকে বাস্তবে জায়েয বলা হয়নিদৃশ্যটির প্রতীকী অর্থ করা হয়েছে

কিন্তু অন্য একজন বললঃ আমি স্বপ্নে আপনার নামকে নবীর নামের জায়গায় উচ্চারণ করেছি এবং আপনাকে আমাদের নবী বলেছি সেই ব্যক্তি যদি উত্তর দেয়ঃ এতে প্রমাণিত হলো আমি ছুন্নতের অনুসারী তাহলে এটি আগের ঘটনার মতো নয়এখানে সে নিজের নামের সঙ্গে যুক্ত ভয়াবহ বাক্যকে প্রত্যাখ্যান না করে সেই বাক্য থেকেই নিজের প্রশংসা বের করেছে

দেওবন্দীদের যুক্তির অন্তর্নিহিত প্রতারণা

তাদের যুক্তি হলোঃ ইবনে ছীরীন একটি বাহ্যিকভাবে ভয়ংকর স্বপ্নের ভালো তাবীর করেছেনঅতএব থানভীর যেকোনো ভালো তাবীরও সঠিক এ যুক্তি গ্রহণ করলে যেকোনো ব্যক্তি যেকোনো ভয়াবহ স্বপ্নের নিজের পছন্দমতো প্রশংসামূলক তাবীর দিতে পারবে

সঠিক নিয়ম হলোঃ কোনো কোনো ভয়ংকর স্বপ্নের ভালো তাবীর হতে পারে; কিন্তু প্রতিটি নির্দিষ্ট তাবীরের পক্ষে অর্থগত সম্পর্ক, শরয়ী সামঞ্জস্য এবং তাবীরকারীর নিরপেক্ষতা থাকতে হবে

ইবনে ছীরীনের তাবীরে তিনটিই রয়েছেঃ

১) স্বপ্নের প্রতীকের সঙ্গে তাবীরের সরাসরি ভাষাগত সম্পর্ক;
২) কোনো কুফরি আক্বীদার অনুমোদন নেই;
৩) তাবীরকারীর ব্যক্তিগত স্বার্থ বা আত্মপ্রশংসা নেই।

থানভীর তাবীরে এগুলোর কোনোটিই পরিষ্কারভাবে নেইঃ

১) নবুওয়াতসূচক শব্দ থেকে “ছুন্নত অনুসরণ”-এর নির্দিষ্ট সম্পর্ক দেখানো হয়নি;
২) কুফরি অর্থবোধক শব্দগুলো প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করা হয়নি;
৩) তাবীরটি সরাসরি থানভীর নিজের প্রশংসা ও মর্যাদার সার্টিফিকেটে পরিণত হয়েছে।

তাদের কাছে পাল্টা প্রশ্ন

দেওবন্দীদের জিজ্ঞেস করছিঃ ইবনে ছীরীন রহমতুল্লাহি য়ালাইহি কি স্বপ্নে নিজের নামকে রছুলে পাক উনার নামের স্থানে শুনেছিলেন?

না

তিনি কি নিজেকে আমাদের নবীউচ্চারণ করার ঘটনাকে নিজের প্রশংসায় ব্যবহার করেছিলেন?

না

তিনি কি নিজের বিষয়ে নিজেই সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন?

না

কবর খোঁড়াহাদীছ অনুসন্ধান”-এর মধ্যে ভাষাগত সম্পর্ক আছে?

হ্যাঁ

আশরাফ আলী রছুলুল্লাহআশরাফ আলী ছুন্নতের অনুসারী এর মধ্যে সেই ধরনের প্রতিষ্ঠিত ভাষাগত সম্পর্ক কোথায়?

তারা দেখাতে পারেনি অতএব, হযরত ইমামে আযম আবূ হানীফা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার স্বপ্নের ঘটনা থানভীর প্রতিরক্ষা নয়বরং দুটি ঘটনা পাশাপাশি রাখলে থানভীর আচরণের অসংগতি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে

চূড়ান্ত জবাব

হযরত মুহাম্মাদ ইবনে ছীরীন রহমতুল্লাহি য়ালাইহি একটি প্রতীকী স্বপ্নদৃশ্যের নিরপেক্ষ ও ভাষাগতভাবে সম্পর্কযুক্ত তাবীর করেছিলেনতিনি কোনো কুফরি বাক্যকে অনুমোদন করেননি, নিজের নামকে নবুওয়াতের স্থানে বসাননি এবং স্বপ্নটিকে নিজের আধ্যাত্মিক সার্টিফিকেটও বানাননিপক্ষান্তরে আশরাফ আলী থানভী নিজের নামকে রছুলুল্লাহআমাদের নবীশব্দের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ঘটনাকে প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান না করে নিজের মুতাবিয়ে ছুন্নতহওয়ার সান্ত্বনা বানিয়েছেঅতএব, দুটি ঘটনাকে এক বলা জাহালত অথবা ইচ্ছাকৃত ধোঁকাবাজি

আর প্রচারিত মক্তবের উস্তাদকবর ভেঙে ফেললেনবর্ণনাটি মূল প্রাচীন রেওয়ায়েতের হুবহু বক্তব্য নয়মূল সূত্রে তাবীরকারী হলেন হযরত মুহাম্মাদ ইবনে ছীরীন রহমতুল্লাহি য়ালাইহি এবং ব্যবহৃত শব্দের অর্থ কবর খোঁড়া বা উন্মোচন করা ধ্বংস করে ফেলানয়

মহান আল্লাহ তায়ালা দেওবন্দি নফছের পূজারী, গ্বইরুল্লাহকে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার চেয়ে বেশী মুহব্বতকারীদের থেকে আমাদের সবাইকে হেফাজতে রাখুন। আমীন।

Friday, July 10, 2026

“আশরাফ আলী রছুলুল্লাহ” কালিমা বিষয়ে দারুল ইফতার ধোঁকাবাজীপূর্ন জবাবের পোস্টমর্টেম

“আশরাফ আলী রছুলুল্লাহ” কালিমা বিষয়ে দারুল ইফতার ধোঁকাবাজীপূর্ন জবাবের পোস্টমর্টেম

প্রথমেই পরিষ্কার করে দিচ্ছি, এই ঘটনায় স্বপ্নদ্রষ্টা ব্যক্তি আমাদের আলোচনার লক্ষ্য নয়সে স্বপ্নে অথবা স্বপ্ন থেকে সদ্য জাগ্রত অবস্থায় অনিচ্ছাকৃতভাবে কী উচ্চারণ করেছিলো, তাতে সে কাফির হয়েছে কি না সেটিও এখানে মূল প্রশ্ন নয়আমাদের প্রশ্ন একটিইঃ

রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার নাম ও নবুওয়াতের স্থানে নিজের নাম উচ্চারিত হওয়ার ভয়াবহ ঘটনাকে আশরাফ আলী থানভী কেন সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাখ্যান না করে নিজের ছুন্নাতের অনুসারীহওয়ার সার্টিফিকেট বানালো?

দারুল ইফতা ডট ইনফো ইচ্ছাকৃতভাবে এই মূল প্রশ্ন এড়িয়ে স্বপ্নদ্রষ্টা দায়ী কি না, ঘুমন্ত মানুষের উপর শরিয়তের বিধান কার্যকর হয় কি না এবং স্বপ্নের বাহ্যিক রূপ ও তাবীর ভিন্ন হতে পারে কি না, এসব অপ্রাসঙ্গিক ফালতু আলোচনা দিয়ে থানভীর গোস্তাখানামূলক আচরণ আড়াল করার চেষ্টা করেছে তাদের জবাবের সার্চ-রেকর্ডেও প্রথমে জাগ্রত ও নিদ্রিত অবস্থারবিধান আলোচনা করা হয়েছে এবং শেষে স্বপ্নদ্রষ্টা কুফরি বাক্য উচ্চারণ করেছে কি নাসেই প্রশ্নকে কেন্দ্র করা হয়েছেঅথচ অভিযোগ থানভীর জবাবের বিরুদ্ধে

মূল ঘটনাঃ আল-ইমদাদে যা সত্যিই লেখা আছে

ঠনাটি আশরাফ আলী থানভী সম্পাদিত মাসিক আল-ইমদাদ, সফর ১৩৩৬ হিজরি, পৃষ্ঠা ৩৪-৩৫ এ প্রকাশিত হয়েছিলমূল স্ক্যান এখনো সংরক্ষিত আছে

চিঠির বক্তব্যের পূর্ণ মর্ম হলোঃ এক ব্যক্তি লিখেছে, সে স্বপ্নে কালিমায়ে ত্বইয়্যিবাহঃ (لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللهِ) পড়তে গিয়ে মুহাম্মাদুর রছুলুল্লাহ-এর পরিবর্তে আশরাফ আলী থানভীর নাম উচ্চারণ করছিলস্বপ্নের মধ্যেই তার মনে হলো, সে ভুল করেছে এবং সঠিকভাবে কালিমা পড়া দরকারসে পুনরায় সঠিক কালিমা পড়ার চেষ্টা করল, কিন্তু তার জিহ্বা থেকে আবারও রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার নামের পরিবর্তে আশরাফ আলীর নাম বের হলোদুই-তিনবার একই ঘটনা ঘটল এরপর সে স্বপ্নে থানভীকে কয়েকজন মানুষের সঙ্গে সামনে দেখতে পেলপ্রবল আবেগ ও দুর্বলতায় সে মাটিতে পড়ে চিৎকার করল এবং ঘুম থেকে জেগে উঠল

জেগে ওঠার পরও তার শরীর অবশ ও দুর্বল ছিলস্বপ্নের ভুলটি সংশোধন করার উদ্দেশ্যে সে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার উপর দরূদ পড়তে চাইলকিন্তু তার জিহ্বায় উচ্চারিত হলোঃ (اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى سَيِّدِنَا وَنَبِيِّنَا وَمَوْلَانَا أَشْرَفِ عَلِيٍّ) অর্থাৎ, “হে মহান আল্লাহ তায়ালা, আমাদের নেতা, আমাদের নবী ও আমাদের মাওলা আশরাফ আলীর উপর দরূদ প্রেরণ করুন

লোকটি একটি বিষয় স্পষ্ট করেছিল যে, সে তখন জাগ্রত ছিলো ঘুমন্ত নয়; তবে তার দাবি অনুযায়ী উচ্চারণটি ইচ্ছাকৃত ছিল না, সে নিজেকে অসহায় মনে করছিল এবং জিহ্বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিল নাপরের দিন সে অনেক কেঁদেছে এবং থানভীর প্রতি তার ভালোবাসার আরও অনেক কারণ রয়েছে বলেও লিখেছেমূল স্ক্যান ও প্রকাশিত প্রতিলিপি উভয় জায়গাতেই এই বিবরণ পাওয়া যায়

এত ভয়াবহ বিবরণের উত্তরে থানভী মাত্র লিখলোঃ (اس واقعہ میں تسلی تھی کہ جس کی طرف تم رجوع کرتے ہو وہ بعونہ تعالیٰ متبع سنت ہے) অর্থাৎ: এ ঘটনায় এ মর্মে সান্ত্বনা ছিল যে, যার দিকে তুমি প্রত্যাবর্তন করছ, তিনি মহান আল্লাহ তায়ালার সাহায্যে ছুন্নাতের অনুসারী এটি কোনো বিরোধীপক্ষের বানানো বাক্য নয়দেওবন্দীদের দারুল ইফতাগুলোও স্বীকার করেছে যে এই বাক্যটি থানভীর এবং ঘটনাটি আল-ইমদাদ, পৃষ্ঠা ৩৪৩৫-এ রয়েছে

এখন এইখানে স্বপ্নদ্রষ্টা নয়, থানভীর প্রতিক্রিয়াই অপরাধের কেন্দ্র

লোকটি ইচ্ছাকৃতভাবে নিজ বিশ্বাস থেকে আশরাফ আলীকে নবী বলেনিবরং সে বারবার বলেছে, কথাটি ভুল, সে সঠিক কালিমা ও দরূদ পড়তে চেয়েছিল এবং উচ্চারণটি তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে ঘটেছেকাজেই স্বপ্নদ্রষ্টার তাকফির নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করে কোন লাভ নেই

বরং এখানেই প্রশ্ন আরও ভয়াবহ হয়ে দাঁড়ায়

একজন লোক যখন আতঙ্কিত হয়ে জানাল যে তার মুখ থেকে থানভীর নাম রছুলুল্লাহএবং নাবিয়্যিনাশব্দের সঙ্গে বের হয়েছে, তখন একজন সত্যিকার মুর্শিদ বা য়ালিমের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া কী হওয়ার কথা ছিল?

তিনি প্রথমেই বলতেনঃ (لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ) এবং: (أَعُوذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ) তারপর স্পষ্টভাবে বলতেনঃ এটি মারাত্মক শয়তানী ওয়াছওয়াছা অথবা মনের বিকারআমার নামকে রছুলে পাক উনার নাম ও নবুওয়াতের উপাধির স্থানে উচ্চারণ করা প্রকাশ্যভাবে বাতিল ও কুফরি অর্থবোধকতুমি একে কোনো শুভ স্বপ্ন মনে করো নামহান আল্লাহ তায়ালার আশ্রয় চাও, সঠিক কালিমা ও দরূদ পড়ো এবং আমার প্রতি এমন সীমালঙ্ঘনকারী আসক্তি থেকে নিজেকে রক্ষা করো

কিন্তু থানভী তা করেনিসে শয়তান থেকে আশ্রয় চাইতে বলেনি, বাক্যগুলোকে কুফরি ও বাতিল বলে প্রত্যাখ্যান করেনি, নিজের নামের প্রতি অতিরঞ্জিত আসক্তি থেকে লোকটিকে সতর্ক করেনিবরং ঘটনাটির মধ্যে নিজের জন্য তাসল্লীবা ইতিবাচক নিশ্চয়তা খুঁজে বের করেছে আর এটিই মূল অপরাধ যা অনেকে বড় বড় য়ালীম উলামাও ফিকির করেনাই পূর্বে এর জবাব যখন দিয়েছিলো

ক্বুরআন ও ছুন্নাহ কী প্রতিক্রিয়া শিক্ষা দে?

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ (وَإِمَّا يَنزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَانِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللهِ ۚ إِنَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ) অর্থাৎ, “শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো কুমন্ত্রণা তোমাকে স্পর্শ করলে মহান আল্লাহ তায়ালার আশ্রয় প্রার্থনা করোনিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ (ছুরাহ আল-আরাফ, ৭:২০০) একই নির্দেশ ছুরাহ ফুছছিলাত ৪১:৩৬-এও রয়েছেশয়তানী কুমন্ত্রণা বা ভয়াবহ অনিচ্ছাকৃত ধারণার শরয়ী চিকিৎসা হলো মহান আল্লাহ তায়ালার আশ্রয় চাওয়া; সেটিকে নিজের আধ্যাত্মিক মর্যাদার প্রমাণ বানানো নয়

আর উক্ত আয়াতের তাফছিরের হাদীছে এসেছে, খোদ রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম রাতে তাহাজ্জুদের জন্য দাঁড়ালে তিনবার তাকবীর বলতেন, তিনবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলতেন, ছুবহানাল্লাহী ওয়া বিহামদিহী তিনবার বলতেন, তারপর বলতেনঃ (أَعُوذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ مِنْ هَمْزِهِ وَنَفْخِهِ وَنَفْثِهِ) অর্থাৎ আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার কাছে আশ্রয় চাই, তার কুমন্ত্রণা হতে, অহংকার হতে, তার হাতে মৃত্যু হওয়া থেকে (আবু দাউদঃ ৭৬৪, ইবন মাজাহঃ ৮০৭, মুনাদে আহমাদঃ ৪/৮৫)

রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বলেছেন, অপছন্দনীয় বা ভয়ংকর স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে হতে পারেএমন স্বপ্ন দেখলে বাম দিকে হালকাভাবে তিনবার থুতুর ভঙ্গি করতে, শয়তান থেকে মহান আল্লাহ তায়ালার আশ্রয় চাইতে এবং তা প্রচার না করতে নির্দেশ দিয়েছেন

অতএব, এই ঘটনার ছুন্নাহসম্মত প্রতিক্রিয়া ছিল ইস্তিআযাহ, প্রত্যাখ্যান ও সতর্কতাথানভীর প্রতিক্রিয়া ছিল নিজের প্রশংসামূলক তাবীর

দারুল ইফতার প্রথম ধোঁকাঃ ঘুমন্ত ব্যক্তির উপর বিধান নেই

এটি এমন এক প্রশ্নের উত্তর, যা অভিযোগকারীরা করেইনি

হ্যাঁ, স্বপ্নের মধ্যে অনিচ্ছাকৃতভাবে কুফরি শব্দ উচ্চারণ করলে কাউকে কাফির বলা হয় না, আমরা বলিওনাজাগ্রত অবস্থাতেও প্রকৃতপক্ষে জিহ্বা ফসকে অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো বাক্য বের হলে, কিংবা কোন হালে বল্লেও তার হুকুম ইচ্ছাকৃত বিশ্বাস ও স্বীকৃতির মতো নয়

কিন্তু এ নীতি থানভীর কাজকে কীভাবে বৈধ করে?

স্বপ্নদ্রষ্টা দায়মুক্ত ধরে নিলামকিন্তু থানভী তো ঘুমন্ত অবস্থায় স্বপ্নে জবাব দেয়নিসে সচেতন অবস্থায় চিঠিটি পড়েছে, বুঝেছে এবং প্রকাশের উপযোগী লিখিত জবাব দিয়েছেতার জবাবই আলোচ্যঃ এ ঘটনায় সান্ত্বনা আছে যে আমি ছুন্নাতের অনুসারী কাজেই স্বপ্নদ্রষ্টার ঘুমন্ত বা অনিচ্ছাকৃত অবস্থা থানভীর সচেতন, লিখিত ও সম্পাদিত বক্তব্যের জন্য কোনো প্রতিরক্ষা নয়

দ্বিতীয় ধোঁকাঃ খারাপ স্বপ্নের ভালো তাবীর হতে পারে

দারুল ইফতা বলেছে, কোনো স্বপ্ন বাহ্যিকভাবে ভয়াবহ হলেও তার তাবীর ভালো হতে পারেউদাহরণ হিসেবে হযরত উম্মুল ফদ্বল রদ্বিল্লাহু য়ানহা উনার স্বপ্ন এবং পায়ে শিকল দেখার ভালো তাবীর উল্লেখ করা হয়েছেএরপর কোনো আলাদা দলিল ছাড়াই থানভীর তাবীরকে সেই সাধারণ নীতির অধীনে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে

এটি স্পষ্ট যুক্তিগত প্রতারণা কিছু ভয়াবহ স্বপ্নের ভালো তাবীর হয় এই সাধারণ নীতি থেকে কখনো প্রমাণ হয় না যেঃ রছুলে পাক উনার নামের স্থলে আশরাফ আলীর নাম এবং আমাদের নবী আশরাফ আলীউচ্চারণের তাবীর হলো আশরাফ আলী ছুন্নাতের অনুসারী

এই নির্দিষ্ট তাবীরের পক্ষে তারা ক্বুরআন, হাদীছ, ছ্বহাবি, তাবিয়ি অথবা কোনো স্বীকৃত তাবীরশাস্ত্রের নির্দিষ্ট নীতি তারা দেখাতে পারেনি

হযরত ইউছুফ য়ালাইহিছ ছালাম উনার স্বপ্নে এগারোটি নক্ষত্রের দ্বারা তাঁর ভাইদের বোঝানো হয়েছিল এটি ওহীর মাধ্যমে সত্যায়িত নবীর তাবীরসেই ঘটনা দেখিয়ে কোনো ব্যক্তি নিজের নামকে রছুলুল্লাহনাবিয়্যিনাশব্দের সঙ্গে যুক্ত হওয়াকে নিজের পক্ষে প্রশংসায় রূপান্তর করতে পারে না, এরূপ হলে সকল পির তাছ্বাউফের নামে এইসব শুরু করে দিলে ক্বুফরে ছেয়ে যাবে দুনিয়াঅথচ দারুল ইফতা তাবীরের বিশেষজ্ঞ ও ছ্বহিবে বাতিনই প্রকৃত অর্থ বের করতে পারেনবলে হযরত ইউছুফ য়ালাইহিছ ছালাম উনার স্বপ্নের উদাহরণ টেনেছে

এটি দলিল নয়; এটি নিজের লোককে ভুলের ঊর্ধ্বে বসানোর অপ-কৌশল

তৃতীয় ধোঁকাঃ মুতাবিয়ে ছুন্নাত বলায় নবীজীর গোলামিই প্রকাশ পেয়েছে

দেওবন্দীদের জবাবে বলা হয়েছে, থানভী মুতাবিয়ে ছুন্নাতশব্দ ব্যবহার করে নাকি বুঝিয়ে দিয়েছে যে সে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার গোলাম এবং উনার ছুন্নাতের অনুসারী

প্রশ্ন হলো, লোকটি কি থানভীকে জিজ্ঞেস করেছিলঃ আপনি কি ছুন্নাতের অনুসারী?”

না

লোকটি জানিয়েছিল, তার জিহ্বায় থানভীর নাম রছুলুল্লাহএবং নাবিয়্যিনাশব্দের সঙ্গে বের হচ্ছেথানভীর প্রথম দায়িত্ব ছিল এই কুফরি বিন্যাসকে ঘৃণাসহ প্রত্যাখ্যান করাপ্রত্যাখ্যানের পরিবর্তে আমি ছুন্নাতের অনুসারী বললে মূল অপরাধ মুছে যায় না কেউ বিষের বোতলের উপর এটি ছুন্নাতের অনুসরণের প্রতীকলিখে দিলে বিষ মধু হয়ে যায় না

স্বপ্ন শরয়ী দলিল নয় দেওবন্দীদের নিজেদের ফতোয়াই সাক্ষী

দেওবন্দী প্রতিষ্ঠান বানুরী টাউনের আরেকটি ফতোয়াতেই স্পষ্ট বলা হয়েছেকোনো স্বপ্ন শরয়ী দলিল নয়; এমনকি স্বপ্নে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনাকে দেখার দাবি করা হলেও, স্বপ্নের বক্তব্য দিয়ে নতুন কোনো শরয়ী বিধান বা নিশ্চিত দাবি প্রতিষ্ঠা করা যায় না

তাহলে প্রশ্ন হলোঃ একটি স্বপ্ন যদি শরয়ী দলিল না হয়, তবে সেই স্বপ্ন থানভীর ছুন্নাতের অনুসারীহওয়ার সার্টিফিকেট হলো কীভাবে?

থানভী ছুন্নাতের অনুসারী কি না, সেটি তার ক্বুরআন-ছুন্নাহসম্মত আক্বীদা ও আমল দ্বারা প্রমাণিত হবেকারও জিহ্বায় তার নাম রছুলুল্লাহআমাদের নবীহিসেবে বের হওয়া তার ছুন্নাত অনুসরণের দলিল হতে পারে না এরূপ হলে সকল পির তাদের মুরিদ্দের দিয়ে মিথ্যা স্বপ্ন বলাই মুহইয়্যুছ ছুন্নাহ হয়ে যাওয়ার সহজ দলিল পেয়ে যায়। অথছ সেই লোক তার মুরিদ ও ছিলোনা।

নিজের পবিত্রতা ও মর্যাদার সার্টিফিকেট বানানোর নিষেধাজ্ঞা

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ (فَلَا تُزَكُّوا أَنْفُسَكُمْ ۖ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اتَّقَىٰ) অর্থাৎ: তোমরা নিজেদের পবিত্রতা ও শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করো না; কে মুত্তাক্বী, তিনি সর্বাধিক জানেন (ছুরাহ আন-নাজম, ৫৩:৩২) এখানে থানভীর সামনে একটি ভয়াবহ পরীক্ষা এসেছিলএকজন নামমাত্র অনুসারীর মনে তার প্রতি এমন অস্বাভাবিক আসক্তি সৃষ্টি হয়েছে যে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার নাম ও নবুওয়াতের উপাধির জায়গায় থানভীর নাম চলে আসছে

একজন নফ থেকে মুক্ত মুর্শিদ এই ঘটনায় নিজের জন্য প্রশংসা খুঁজত নাবরং নিজের নাম মুছে দিয়ে লোকটিকে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার দিকে ফিরিয়ে দিত কিন্তু থানভী নিজের আমিত্বকে সামনে এনে বলল, এ ঘটনায় তার ছুন্নাতের অনুসারী হওয়ার সান্ত্বনা রয়েছেএখানেই নফ, হাওয়া এবং আত্মমুগ্ধতার প্রকাশ

থানভীর প্রতিক্রিয়া কোন জায়গায় কুফরের হুকুমে পৌঁছায়?

প্রথমে মূলনীতি পরিষ্কার করতে হবে

ইচ্ছাকৃতভাবে এবং অর্থ মেনে কোনো মানুষকে রছুলুল্লাহবা আমাদের নবীবলা নিঃসন্দেহে কুফরদেওবন্দীদের নিজেদের ফতোয়াও স্বীকার করেছে, জাগ্রত ও স্বেচ্ছাকৃত অবস্থায় অন্য কাউকে নবী মেনে এ ধরনের কালিমা পড়লে ব্যক্তি ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়

হানাফি ফিক্বহের স্বীকৃত মূলনীতি হলোঃ (الرِّضَا بِالْكُفْرِ كُفْرٌ) অর্থাৎ: কুফরের প্রতি সন্তুষ্ট হওয়াও কুফর রদ্দুল মুহতার আল-বাহরুর রাইক্ব-এ কুফরকে তার কুফরী অবস্থাসহ সম্মান করা বা তাতে সন্তুষ্ট হওয়ার প্রসঙ্গে এই নীতি উল্লেখ করা হয়েছে

অতএব, হুকুমটি এভাবে বুঝতে হবেঃ কুফরি বাক্যকে কুফর হিসেবে ঘৃণা ও প্রত্যাখ্যান না করে সেটিকে সঠিক, শুভ, প্রশংসনীয় অথবা নিজের আধ্যাত্মিক মর্যাদার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হলে এটি তাস্বীবুল কুফরবা কুফরকে সঠিক/শুভ প্রতিপন্ন করা এবং রিদ্বা বিল-কুফর”-এর হুকুমে পৌঁছে যায়আর রিদ্বা বিল-কুফর নিজেই কুফর

থানভীর লিখিত উত্তরে ওই কুফরি শব্দগুলোর কোনো প্রত্যাখ্যান নেইবরং সে বলেছে, ঘটনাটিতে তাসল্লীআছে এবং সেই তাসল্লী তার নিজের মুতাবিয়ে ছুন্নাতহওয়া অর্থাৎ, যে ঘটনাটি শুনে তার কলিজা কেঁপে ওঠা, হাওক্বালাহ ও ইস্তিআযাহ পাঠ করা এবং নিজের নামকে নবুওয়াতের শব্দ থেকে বিচ্ছিন্ন করা উচিত ছিল, সেই ঘটনাটিকেই সে নিজের পক্ষে মঙ্গলসূচক বানিয়েছে

এ কারণেই এটি নিছক স্বপ্নের ভুল তাবীরনয়এটি কুফরি মাদ্দাকে আত্মপ্রশংসার মাধ্যমে সুন্দর, ইতিবাচক ও সান্ত্বনাদায়ক করে উপস্থাপন করা

ফিক্বী ভাষায়, ইবারত ও আচরণের উপর কুফরের হুকুম আসেতবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির চূড়ান্ত তাকফিরের ক্ষেত্রে তার উদ্দেশ্য, কুফরি অর্থকে সত্য বলে গ্রহণ করা এবং সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতাগুলো আলাদাভাবে বিচার করা হয়এই পার্থক্য কুফরি ইবারতকে নির্দোষ বানায় না; বরং শরয়ী বিচারে ইবারতের হুকুম এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তির উপর হুকুমের পদ্ধতিকে পৃথক রাখে

দারুল ইফতার সামনে সরাসরি প্রশ্ন

দারুল ইফতা ডট ইনফোর মুফতিদের কাছে কয়েকটি সরাসরি প্রশ্নঃ

প্রথমত, স্বপ্নদ্রষ্টা দায়ী কি না সেটি নিয়ে এত আলোচনা করলে কেন, যখন অভিযোগ থানভীর সচেতন লিখিত জবাবের বিরুদ্ধে?

দ্বিতীয়ত, রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার নামের স্থলে আশরাফ আলী রছুলুল্লাহএবং দরূদে আমাদের নবী আশরাফ আলীউচ্চারণ হওয়ার নির্দিষ্ট তাবীর থানভী ছুন্নাতের অনুসারী এটি কোন ক্বুরআনী আয়াত, কোন হাদীছ অথবা কোন স্বীকৃত তাবীরের কিতাবে রয়েছে?

তৃতীয়ত, থানভী কেন একবারও বলেনিঃ এটি শয়তানের কাজ; মহান আল্লাহ তায়ালার আশ্রয় চাও এবং আমার নামের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করো না”? সে এর দ্বারা কোন দলিলে নিজেকে ছুন্নতের উপর রয়েছে প্রমাণ করলো?

চতুর্থত, অপছন্দনীয় স্বপ্নে ইস্তিআযাহ করার স্পষ্ট ছুন্নাহ বাদ দিয়ে নিজের প্রশংসামূলক তাবীর দেওয়া কোন ছুন্নাতের অনুসরণ?

পঞ্চমত, স্বপ্ন শরয়ী দলিল নয় বলে তোমরাই যখন ফতোয়া দে, তখন এই স্বপ্ন থানভীর মুতাবিয়ে ছুন্নাতহওয়ার দলিল হলো কীভাবে?

ষষ্ঠত, মহান আল্লাহ তায়ালা যখন বলেছেন, নিজেদের পবিত্রতার সার্টিফিকেট দিও না, তখন থানভী কীভাবে নিজের নামকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ভয়াবহ ঘটনাকেই নিজের ছুন্নাত অনুসরণের সার্টিফিকেট বানাল?

চূড়ান্ত রায়

এই ঘটনায় স্বপ্নদ্রষ্টা ব্যক্তি আমাদের টার্গেট নয়সে ইচ্ছাকৃতভাবে আশরাফ আলীকে নবী হিসেবে বিশ্বাস করেছে এমন প্রমাণ নেইবরং সে ভুলটি বুঝেছে, সংশোধন করতে চেয়েছে এবং অনিচ্ছাকৃত হওয়ার কথা বলেছে, সে সংশোধনের চেষ্টা করলে থানবির পক্ষ থেকে উল্টো তাকে ভুলের মধ্যেই ঠেলে দেওয়া হয়েছে

কিন্তু থানভীর অপরাধ স্পষ্টঃ সে নবুওয়াতসূচক কুফরি বাক্য শুনে হাওক্বালাহ ও ইস্তিআযাহ পাঠ করে তা প্রত্যাখ্যান করেনি

সে লোকটিকে শয়তানী ওয়াছওয়াছা, মানসিক বিকার অথবা নিজের প্রতি সীমালঙ্ঘনকারী আসক্তি থেকে সতর্ক করেনি

সে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার সম্মান রক্ষার্থে নিজের নামকে সম্পূর্ণভাবে নাকচ করেনি

বরং সে কুফরি অর্থবোধক ঘটনাটিকে নিজের ছুন্নাতের অনুসারীহওয়ার সান্ত্বনা ও সার্টিফিকেট বানিয়েছে

সুতরাং দারুল ইফতার ঘুমন্ত ব্যক্তির উপর হুকুম নেইঅথবা ভয়ংকর স্বপ্নের ভালো তাবীর হতে পারে এ দুটি বক্তব্য থানভীর কাজের কোনো জবাব নয়এগুলো মূল অভিযোগ থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার কৌশল প্রতারণা বৈ কিছুই না, আর রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বলেছেন প্রতারক আমার উম্মত নয়

মূল অভিযোগ হলোঃ থানভী কুফরি বাক্যকে প্রত্যাখ্যান না করে সেটিকে নিজের আধ্যাত্মিক প্রশংসায় রূপান্তর করেছেকুফরকে তার কুফরি বৈশিষ্ট্যসহ সঠিক, শুভ বা সান্ত্বনাদায়ক মনে করা রিদ্বা বিল-কুফরতাস্বীবুল কুফর”-এর অন্তর্ভুক্ত; আর হানাফি ফিক্বহের মূলনীতি অনুযায়ী, “الرِّضَا بِالْكُفْرِ كُفْرٌ”-কুফরের প্রতি সন্তুষ্টিও কুফর

এটাই সেই প্রশ্ন, যার জবাব দারুল ইফতা ডট ইনফো দেয়নি, (তবে এই লিখার আগে কেউ তাদের ধরেছে বলেও মনে হয়না)বরং স্বপ্নদ্রষ্টাকে সামনে এনে থানভীর আমিত্ব, আত্মপ্রশংসা ও গোস্তাখানামূলক তাবীরকে আড়াল করেছে

দেওবন্দীদের আরেক ধোঁকাঃ তাহলে ইমাম আবূ হানীফা রদ্বিআল্লাহু য়ানহু উনার স্বপ্নের তাবীরকারীও কি খারাপ?